ডোমেইন নাম নির্বাচন

ডোমেইন-হোস্টিং: বিস্তারিত আলোচনা

যখন একটি ব্লগ বা ওয়েবসাইট তৈরির প্রসঙ্গ আসে তখন কমন যে শব্দ দু’টি আমরা শুনে থাকি তা হচ্ছে ডোমেইন এবং হোস্টিং। নতুন অনেকেই জানেন না এরা সম্পূর্ণ পৃথক দু’টি বিষয়। মূলত একটি ব্লগ বা ওয়েবসাইট এ দু’টির সমন্বয়ে তৈরি হয়ে থাকে। এই বেগিনার গাইডে চেষ্টা করবো ডোমেইন নাম এবং ওয়েব হোস্টিং কনসেপ্ট সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা করার।

ডোমেইন নাম কী?

ডোমেইন নাম হচ্ছে আপনার ব্লগ বা ওয়েবসাইটের জন্য একটি ইউনিক ঠিকানা যা কোন ভিজিটর তার ব্রাউজারের ইউআরএল বারে টাইপ করে ভিজিট করতে পারেন।

অন্যভাবে, যদি আপনার ওয়েবসাইটকে একটি বাড়ির সাথে তুলনা করা হয় তাহলে আপনার বাড়ির ঠিকানাটি হচ্ছে আপনার ডোমেইন নাম।

ইন্টারনেট মূলত তারের মাধ্যমে একে অপরের সাথে সংযুক্ত কম্পিউটারের একটি নেটওয়ার্ক। যা বিশ্বব্যাপী বিস্তৃত। প্রতিটি কম্পিউটারকে আলাদাভাবে সহজে সনাক্ত করার জন্য আইপি অ্যাড্রেস নামক একটি নিউমেরিক সিরিজ দ্বারা নির্ধারিত করা হয়।

আইপি অ্যাড্রেস মূলত নির্দিষ্ট সংখ্যক সংখ্যার সমষ্টি যা ডট (.) দ্বারা বিভক্ত করা হয়। সাধারণত আইপি অ্যাড্রেস 132.244.66.9 এরকম দেখতে হয়।

আমাদের ব্যবহৃত কম্পিউটারের এধরনের সংখ্যা চিহ্নিত করতে এবং মনে রাখতে কোন অসুবিধা হয় না। কিন্তু আমাদের পক্ষে তা মনে রাখা এবং ব্রাউজারে টাইপ করে আলাদা আলাদা ওয়েবসাইটে ভিজিট করা অসম্ভবের পর্যায়। আমাদের এই অসুবিধা দূর করার জন্য ডোমেইন নামের উৎপত্তি।

এক কথায়, ডোমেইন নাম হচ্ছে একটি ওয়েবসাইটের জন্য ঠিকানা যা মানুষ সহজে মনে রাখতে পারবেন। উদাহরণ হিসেবে বলা যায় bloggerzia.com

ওয়েব হোস্টিং কী

ওয়েব হোস্টিং হচ্ছে ইন্টারনেটে সংযুক্ত থাকা কোন কম্পিউটারের এমন একটি জায়গা যেখানে আপনার ওয়েবসাইটের সমস্ত তথ্য সংরক্ষিত থাকে। যা ব্রাউজারের মাধ্যমে পৃথিবীর যেকোন প্রান্ত থেকে অ্যাক্সেস করা যায়।

আরও সহজভাবে বলতে গেলে, ডোমেইন নাম যদি আপনার বাড়ির ঠিকানা হয় তাহলে ওয়েব হোস্টিং হচ্ছে আপনার সেই বাড়িটি। অনলাইনে থাকা প্রত্যেকটি ওয়েবসাইটের অবশ্যই একটি হোস্টিং থাকবে।

ডোমেইনের সাথে হোস্টিংয়ের সম্পর্ক

ডোমেইন নাম এবং ওয়েব হোস্টিং দু’টি ভিন্ন সেবা। এই দু’টি সেবা একসাথে একটি পূর্ণাঙ্গ ওয়েবসাইট তৈরি করে।

ডোমেইন নাম ছাড়া ভিজিটরের পক্ষে আপনার ওয়েবসাইট খুঁজে বের করা সম্ভব নয়। আবার আপনার যদি অনলাইনে একটি নির্দিষ্ট স্পেস বা জায়গা না থাকে তাহলে আপনি ওয়েবসাইট তৈরি করতে পারবেন না। ওয়েবসাইট মূলত নির্দিষ্ট কিছু ফাইল টাইপ ও তথ্যের সমষ্টি যা আপনার হোস্টিংয়ে সংরক্ষিত থাকে।

একারণে ডোমেইন এবং হোস্টিং একই সাথে উচ্চারিত হয়।

ওয়েব সাইট তৈরির জন্য কোনটি প্রয়োজন? ডোমেইন নাকি হোস্টিং?

একটি ওয়েবসাইট তৈরির জন্য ডোমেইন এবং হোস্টিং দু’টিই প্রয়োজন।

একটি ডোমেইন নাম কেনার অর্থ হচ্ছে আপনি একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য (সাধারণত ১ বছর) আপনার ওয়েবসাইটের জন্য একটি নাম ব্যবহারের অধিকার নিলেন। যা আপনি পরবর্তীতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে রিনিউ করার সুযোগ পাবেন। একটি ডোমেইন একবারে সর্বনিম্ন ১ বছর থেকে সর্বোচ্চ ১০ বছরের জন্য নিবন্ধন করতে পারবেন।

আপনার ওয়েবসাইটের ফাইল ও তথ্য সংরক্ষণ করার জন্য ওয়েব হোস্টিং প্রয়োজন। হোস্টিং নেওয়ার পরে আপনার ডোমেইনের সেটিংস থেকে হোস্টিংয়ের তথ্য আপডেট করে নিতে হবে।

ডোমেইন এবং হোস্টিং কি আলাদা কেনা যাবে?

ডোমেইন এবং হোস্টিং দু’টি সম্পূর্ণ আলাদা সেবা। অনেক কোম্পানি এ দু’টি সেবা একই সাথে দিয়ে থাকে। আপনি চাইলে একই কোম্পানি থেকে দু’টি সেবাই নিতে পারেন। অথবা পছন্দ মতো আলাদা আলাদা কোম্পনিও পছন্দ করতে পারেন।

আপনি যদি আলাদা কোম্পানি ব্যবহার করেন সেক্ষেত্রে শুধু আপনার ডোমেইনের ডিএনএস থেকে হোস্টিংয়ের তথ্যগুলো আপডেট করে দিতে হবে।

অন্যদিকে, যদি সেবা দু’টি একই কোম্পানি থেকে নিয়ে থাকেন তাহলে সাধারণত ডোমেইনের ডিএনএস তথ্য আপডেট করার প্রয়োজন হয় না। ডিফল্টভাবে কোম্পানি তাদের হোস্টিংয়ের তথ্য আপডেট করা থাকে।

ডোমেইন নাম কি পরবর্তীতে অন্য কোম্পানিতে ট্রান্সফার করা যাবে?

হ্যাঁ, আপনি চাইলে একটি নির্দিষ্ট সময় পরে আপনার ডোমেইন ট্রান্সফার করতে পারবেন। আপনি যখন একটি ডোমেইন কিনে থাকেন তখন এর সম্পূর্ণ মালিক আপনি। তাই আপনি চাইলে তা ভিন্ন কোন রেজিস্ট্রারে ট্রান্সফার করতে পারবেন।

ডোমেইনে হোস্টিংয়ের তথ্য ছাড়াও এর মালিকের তথ্য আপডেটের অপশন থাকে। একটি ডোমেইন কেনার সময় এসকল তথ্য দেওয়া হয়। যা ডোমেইন রেজিস্টার হওয়ার সময় আপডেট হয়ে যায়। পরবর্তীতে এসকল তথ্য আপডেটের সুযোগ থাকে। সাধারণত ডোমেইন কেনার পরে বা অথোর তথ্য আপডেটের পরবর্তী ৬০ দিন পরে আপনি ডোমেইন ট্রান্সফার করতে পারবেন।

ডোমেইন নাম পরিবর্তন না করে কি অন্য হোস্টিং কোম্পানিতে ওয়েবসাইট সরানো যাবে?

আপনি চাইলে অবশ্যই তা করতে পারবেন। আপনি যেহেতু ডোমেইনের মালিক তাই সেটিংস থেকে যে হোস্টিংয়ের তথ্য আপডেট করে দিবেন আপনার ওয়েবসাইট সেই হোস্টিং থেকে তথ্য সরবরাহ করবে।

এক্ষেত্রে যদি আপনার পুরনো হোস্টিং কোম্পানি সম্পূর্ণ ওয়েবসাইট ব্যাকআপ বা ট্রান্সফ্রারের সুবিধা দেয় তাহলে তা নতুন হোস্টিংয়ে সহজেই যোগ করতে পারবেন। আবার চাইলে নতুন করেও ওয়েবসাইট সাজাতে পারবেন।

সম্পূর্ণ আর্টিকলটিতে ডোমেইন এবং হোস্টিংয়ের সম্পূর্ণ বেসিক নিয়ে আলোচনা করার চেষ্টা করা হয়েছে। আশা করছি এই লেখাটি আপনাকে ডোমেইন এবং হোস্টিংয়ের মধ্যকার পার্থক্য, সম্পর্ক এবং কমন কিছু প্রশ্নের উত্তর জানতে সাহায্য করেছে।

যদি লেখাটি আপনার ভালো লেগে থাকে তাহলে পছন্দের সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন। আর যদি এ সম্পর্কে কোন প্রশ্ন বা মতামত থাকে তাহলে অবশ্যই কমেন্ট অপশনে লিখুন।