ডোমেইন নাম নির্বাচন করার ধাপ শেষ করার পরে একটি ডোমেইন কেনার সময় কোন কোন বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে সে বিষয়ে জানতে হবে। একটি ব্লগ বা ওয়েবসাইট আপনার ব্যক্তিগত কিংবা প্রতিষ্ঠানের পরিচয় অনলাইনে তুলে ধরে। তাই ডোমেইন কেনার সময় কোন তাড়াহুড়ো না করে নিচের ধাপগুলো মাথায় রেখে এগিয়ে যাওয়া উচিত।

ডোমেইন : রেগুলার নাকি প্রিমিয়াম

NameSilo.com অথবা অন্য যে কোন ডোমেইন রেজিস্ট্রার কোম্পানির ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে সার্চবারে আপনার কাঙ্ক্ষিত নামটি লিখে সার্চ করে দেখুন তা নিবন্ধনের জন্য খালি রয়েছে কিনা।

যদি ডোমেইন নামটি খালি থাকে আর তা রেগুলার প্রাইসে পেয়ে যান তাহলে এই পোস্টের পরবর্তী ধাপগুলো অনুসরণ করুন।

আর যদি তা প্রিমিয়াম হিসেবে লিস্টেড থাকে এবং প্রাইস আপনার সাধ্যের মধ্যে হয় তাহলে কিনতে পারেন। কারণ, ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডে নাম অনেক বড় একটা ফ্যাক্ট। যেমন – insurance24 .com এর চেয়ে insurance .com নামটি অনেক বেশি প্রোফেশনাল ও বিশ্বস্ত মনে হয়।

ডোমেইন প্রিমিয়াম লিস্টেড ২ ভাবে হতে পারে।

১. যদি কেউ কিনে তা পুনরায় মূল্য নির্ধারণ করে পার্ক করে রাখে।
২. ওই এক্সটেনশনের মালিকানা যে দেশ বা প্রতিষ্ঠানের হাতে তারা যদি প্রিমিয়াম মূল্য নির্ধারণ করে দেয়।

ডোমেইনের বয়স

কেউ যদি একটি ডোমেইন কিনে ব্যবহার করার পরে আর রিনিউ না করেন তাহলে একটি নির্দিষ্ট সময় পরে তা আবার কেনার জন্য উন্মুক্ত হয়ে যায়। তাই নাম খালি থাকা মানেই সেটি নতুন ডোমেইন হবে এমন নয়।

কোন ডোমেইন আগে ব্যবহৃত হয়েছে কিনা তা জানার সবচেয়ে ভালো ২টি পদ্ধতি হচ্ছে –

১. archieve.org সাইটে ডোমেইনটি লিখে সার্চ করুন। এটি হচ্ছে একটি আর্কাইভ সাইট যা প্রায় সকল নিবন্ধিত ডোমেইনের তথ্য জমা রাখে। এদের আর্কাইভে কোন তথ্য থাকলে তা ক্যালেন্ডারে মার্ক করে দেখাবে।

২. site:”YourDomainName” লিখে গুগলে সার্চ করুন। ডোমেইন যদি আগে ব্যবহৃত হয়ে থাকে তাহলে এখনও চান্স রয়েছে গুগলের কাছে এর কোন কিছু জমা থাকার। YourDomainName এর স্থানে এক্সটেনশন সহ আপনার ডোমেইনটি লিখবেন।

ডোমেইন : নতুন নাকি পুরানো

যদি আপনার কাঙ্ক্ষিত ডোমেইন আগে ব্যবহৃত না হয়ে থাকে তাহলে সেটি কেনা সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ হবে। কারণ আপনি নিজের মতো করে এর এসইও এবং র‌্যাংকিং করাতে পারবেন।

আর যদি ডোমেইনটি পুরানো হয় এবং আপনি তা কিনতে মনস্থির করে থাকেন তাহলে নিচের পয়েন্ট ৩টি মাথায় রাখবেন।

১. কপিরাইট ক্লেইম : Google Transparency Report সাইটটি ব্যবহার করে দেখুন গুগলে এই ডোমেইনটির কোন কন্টেন্ট কপিরাইট ক্লেইম আছে কিনা।

২. ডোমেইন ব্লাক লিস্টেড : ডোমেইনটি যদি পূর্বে স্প্যামিং কাজে ব্যবহৃত হয় তাহলে বিভিন্ন সার্চ ইঞ্জিন, অ্যাড এজেন্সি বা ইমেইল সার্ভিস প্রোভাইডার তা ব্লাক লিস্টেড করে রাখতে পারে। একটু গুগল সার্চ করলে ব্লাক লিস্টেড ডোমেইন বের করার অনেক কার্যকরী পদ্ধতি পেয়ে যাবেন। এছাড়া নিচের টুলগুলো ব্যবহার করে দেখতে পারেন।

৩. এসইও ইরোর : পুরনো ডোমেইনে অনেক ব্রোকেন লিংক ও 404 ইরোর থাকতে পারে। যা আপনার সাইটের এসইও এর জন্য সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। site:”YourDomainName” লিখে গুগলে সার্চ করে দেখুন কী পরিমাণ লিংক রয়েছে। খুব বেশি পরিমাণে থাকলে ইগনোর করাই ভালো।

এখানে উল্লেখ করা প্রথম ২টি পয়েন্ট খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আর ৩ নম্বর পয়েন্টটি 301 রিডিরেকশনের মাধ্যমে সলভ করা সম্ভব। আমার মতে হাতে অপশন থাকলে পুরানো ডোমেইন না কেনা ভালো হবে।

ডোমেইন : রেজিস্ট্রার নাকি রিসেলার

উপরের ধাপগুলো অনুসরণ করে আমরা একটি ডোমেইন যাচাই করেছি। এবার যত দ্রুত সম্ভব কোন বিশ্বস্ত রেজিস্ট্রার বা রিসেলারের কাছ থেকে ডোমেইনটি কিনে নেওয়া উচিত।

ICANN (The Internet Corporation for Assigned Names and Numbers) হচ্ছে আইপি ও ডোমেইন নিয়ন্ত্রক সংস্থা। এরা টপলেবেল ও কান্ট্রি কোড ডোমেইন নিয়ন্ত্রণ করে থাকে।

ICANN সরাসরি যে সকল প্রতিষ্ঠানকে ডোমেইন বিক্রি করার অনুমতি দান করে তাদের বলা হয় ডোমেইন রেজিস্ট্রার। এরা সরাসরি ডোমেইন নিবন্ধন দিয়ে থাকে। আবার কিছু থার্ড-পার্টি কোম্পানিকে তাদের হয়ে ডোমেইন বিক্রির অনুমতি দেয়।

রেজিস্ট্রার কোম্পানি যখন কোন থার্ড-পার্টি কোম্পানিকে ডোমেইন বিক্রির অনুমতি দেয় তাদের বলা হয় ডোমেইন রিসেলার। বাংলাদেশী যে সকল কোম্পানি ডোমেইন নিবন্ধন সুবিধা দিয়ে থাকে তারা সবাই রিসেলার।

তবে .bd এবং .বাংলা ডোমেইন এক্সটেনশনের মালিকানা বাংলাদেশ সরকারের। তাই এগুলোর মালিকানা সরাসরি বিটিসিএল এর হাতে।

ডোমেইন রেজিস্ট্রারগণ যেহেতু ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ব্যবসা পরিচালনা করে তাই এদের দেউলিয়া হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা নাই বললেই চলে। অন্যদিকে রিসেলারগণ ব্যবসা নিম্নমুখী হলে দেউলিয়া হয়ে যাবার সম্ভাবনা থাকে।

রেজিস্ট্রারগণ পেমেন্ট হিসেবে সাধারণত ইউএসডি গ্রহণ করে। এছাড়া কিছু জনপ্রিয় রেজিস্ট্রার অন্যান্য কারেন্সি যেমন: ইউরো, পাউন্ড গ্রহণ করে। তাই আপনার যদি অনলাইনে পেমেন্ট করার সুবিধা থাকে তাহলে সরাসরি রেজিস্ট্রার থেকে ডোমেইন কেনা ভালো হবে।

অন্যথায়, ভালো করে খোঁজ নিয়ে বাংলাদেশি কোন রিসেলারের কাছ থেকে ডোমেইন নিবন্ধন নিতে পারেন।

ICANN-Accredited Registrars লিংকে ভিজিট করে ICANN দ্বারা অনুমতিত সকল Registrar-দের তালিকা দেখতে পারেন।

রেজিস্ট্রার বা রিসেলার নির্বাচন

কোন ডোমেইন রেজিস্ট্রার বা রিসেলার নির্বাচন করার জন্য আমরা কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখবো।

১. রেপুটেশন : প্রথমে অনলাইনে সার্চ করে বিভিন্ন ফোরাম, গ্রুপ, ব্লগ বা প্রশ্নোত্তর সাইট থেকে এদের সার্ভিস সম্পর্কে জেনে নিবো।

২. খরচ : আমাদের ভালো করে ডোমেইন রেজিস্ট্রেশন এবং রিনিউয়াল ফি জানতে হবে। অর্থাৎ প্রথম বছরের জন্য কতো টাকা বা ডলার চার্জ করবে এবং পরবর্তী বছর থেকে কতো চার্জ দিতে হবে।

৩. আনুষঙ্গিক সেবা ও সুবিধা : একটা ডোমেইনের সাথে Privacy Protection, Email Forwarding সহ আরও কিছু সেবা দরকার হতে পারে।

ডোমেইন রেজিস্ট্রেশনের সময় আমাদের কিছু ব্যক্তিগত তথ্য দিতে হয় যা Whois রেকর্ডে উন্মুক্ত থাকে। ফলে যে কেউ আপনার ফোন নাম্বার, ইমেইল সংগ্রহ করে স্প্যামিং করতে পারেন। Privacy Protection দ্বারা Whois রেকর্ডে এসকল তথ্য লুকানো যায়।

Email Forwarding দ্বারা আপনি ব্র্যান্ড ইমেইল (যেমন: [email protected]) তৈরি করে তা আপনার ব্যবহৃত ইমেইল অ্যাকাউন্টে ফরওয়ার্ড করতে পারবেন। অর্থাৎ কেউ যদি আপনার ব্র্যান্ড ইমেইলে মেইল করে সেটি সরাসরি আপনার জিমেইল বা অন্য কোন ইমেইল অ্যাকাউন্টে চলে আসবে।

তাই আমাদের অন্তত জানতে হবে Privacy Protection ও Email Forwarding সেবা দু’টি রয়েছে কিনা। আর থাকলেও তা ফ্রি দিচ্ছে কিনা নাকি কোন বাড়তি চার্জ দিতে হবে। চার্জ দিতে হলে তা কতো; আর যদি ফ্রি দেয় তাহলে শুধু প্রথম বছরের জন্য নাকি আজীবন – এসব বিষয় জেনে নেওয়া যেতে পারে।

৪. ডোমেইন কন্ট্রোল প্যানেল : জনপ্রিয় সকল রেজিস্ট্রারগণ ডোমেইনের ফুল কন্ট্রোল প্যানেলের অ্যাক্সেস দিয়ে থাকে। আর যদি কোন রিসেলারের কাছ থেকে কিনে থাকেন সেক্ষেত্রে অবশ্যই নিচের বিষয়গুলো ভালো করে জেনে নিবেন।

  • ডোমেইনের ফুল কন্ট্রোল প্যানেল আপনাকে দিবে কিনা।
  • কন্ট্রোল প্যানেল ব্যবহার করে ডোমেইন ট্রান্সফার অথেনটিকেশন কোড সরাসরি নিতে পারবেন কিনা।
  • আপনি নিজে সরাসরি ডোমেইন ট্রান্সফার আউট করতে পারবেন কিনা।
  • এক্ষেত্রে তাদের কোন চার্জ দিতে হবে কিনা (চার্জ লাগে না)।
  • ডোমেইন লক অপশন আছে কিনা।

আর ডোমেইন নিবন্ধনের সময় অবশ্যই সতর্ক থাকবেন যেন আপনার ব্যবহৃত সকল তথ্য সঠিক থাকে।

ডোমেইন কেনার আগে অবশ্যই সতর্ক থাকবেন। অক্লান্ত পরিশ্রম করে ডোমেইনটি জনপ্রিয় করার পরে যদি বুঝতে পারেন ডোমেইনটি ফল্টি বা ফুল কন্ট্রোল প্যানেল না থাকার কারণে মালিকানা হারাতে হয়, তাহলে নিশ্চিত থাকুন আপনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হবেন।

এই ছিলো একটি ডোমেইন কেনার পূর্বে সম্ভাব্য গাইড লাইন। যদি এ বিষয়ে আপনার কোন প্রশ্ন বা মতামত থাকে অথবা আপনি আরও কিছু যোগ করতে চান তাহলে আমাদের কমেন্ট বক্সে লিখতে ভুলবেন না। আর যদি লেখাটি ভালো লাগে তাহলে প্রিয় সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করে আপনার বন্ধুদের জানতে সাহায্য করুন।

মন্তব্য করুন