যে কোন ওয়েবসাইট তৈরি করার জন্য প্রয়োজন হয় একটি নাম। যা ডোমেইন হিসেবে পরিচিত। সঠিক গাইড লাইন না জানার কারণে হুট করে কোন ডোমেইন কিনে পরবর্তীতে সময় ও অর্থ অপচয় সহ আরও বড় কোন সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে। চলুন জেনে নেই একটি ডোমেইন নাম নির্বাচনের সময় যে সকল বিষয়ে খেয়াল রাখা উচিত।

রিকমেন্ড পোস্ট: ডোমেইন-হোস্টিং : বিস্তারিত আলোচনা

ডোমেইন : নিশ নাকি অথোর

নির্দিষ্ট কোন বিষয়ের ওপর কোন ওয়েবসাইট তৈরি করাকে বলা হয় নিশ সাইট। যেমন: কেউ যদি শুধুমাত্র সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন বা এসইও-এর ওপর লেখালেখি করার জন্য ব্লগ সাইট তৈরি করেন তাহলে সেটাকে আমরা নিশ সাইট বলতে পারি। অথবা নির্দিষ্ট কোন পণ্য বা সেবার জন্যও নিশ সাইট হতে পারে।

অপরদিকে, অথোর ডোমেইন কোন নামকে সুপরিচিত করার জন্য ব্যবহৃত হয়। এটি মূলত ব্র্যান্ডিং এর জন্য ব্যবহৃত হয়। তাই একে ব্র্যান্ড ডোমেইনও বলা হয়। আমার ব্লগের নামটি যেহেতু নিজেকে প্রমোট করার জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে তাই এটিও একটি অথোর ডোমেইন।

ডোমেইন নাকি প্রতিষ্ঠান : কোন নামটি আগে

আপনার ব্লগ, প্রতিষ্ঠান বা সেবার ধরন নির্বাচন করার পরে এর সাথে মানানসই একটি ডোমেইন নাম খুঁজে বের করুন। যদি ডোমেইন নাম পাওয়া যায় তাহলে অন্যান্য প্রাতিষ্ঠানিক কাজ শুরু করুন।

একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সকল আনুষ্ঠানিক কাজ শেষ করার পূর্বেই ডোমেইনের বিষয়টি মাথায় রাখা উচিত। কারণ একটি ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠানের প্রচারণা ছাড়াও একটি সেলস ফানেল তৈরি করতে সাহায্য করে।

নিশ ডোমেইন নির্বাচনেও নাম একটা বড় ফ্যাক্ট হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাই অন্যান্য কাজ (সোস্যাল মিডিয়া প্রোফাইল রেডি, লিড জেনারেশন) করার পূর্বে দেখে নিন মনমতো নাম খালি আছে কিনা।

ডোমেইন নাম : দৈর্ঘ্য ও ব্র্যান্ড ভ্যালু

ডোমেইন নাম সর্বোচ্চ ৬৭ অক্ষর পর্যন্ত হতে পারে। তবে একটি আদর্শ ডোমেইন নাম ১৪ অক্ষরের বেশি হওয়া উচিত নয়। ডোমেইন নাম যতো সহজ ও ছোট হয় ভিজিটরের পক্ষে তা মনে রাখা ও ব্রাউজারে টাইপ করে ভিজিট করা সহজ হয়।

আপনি যদি বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে কোন নামকে ব্র্যান্ড করতে চান তাহলে স্পেস সহ ১১ অক্ষরের মধ্যে নাম নির্বাচন করুন। বাংলাদেশের মোবাইল নাম্বার যেহেতু ১১ সংখ্যার হয় তাই ব্র্যান্ড নাম স্পেস সহ ১১ অক্ষরের বেশি হলে ব্র্যান্ডাবল প্রমোশনাল ম্যাসেজ পাঠাতে অসুবিধা হবে।

ডোমেইন নাম : উচ্চারণ, শব্দ চয়ন ও ক্যারেক্টার

ডোমেইন নাম অবশ্যই সহজে উচ্চারণ করা যায়, উচ্চারণ অনুযায়ী সহজে লেখা যায় এমন হবে। এমন কোন নাম নির্বাচন করা ঠিক নয় যা লিখতে কনফিউশন তৈরি করে। যেমন: বাংলা পদ্ম শব্দটি ইংরেজিতে Padma, Padmo, Podmo, Padda, Paddo, Poddo এভাবে লেখা যায়। তাই এধরনের শব্দ পছন্দ না করাই উত্তম।

ডোমেইন নাম এক শব্দের হলে সবচেয়ে ভালো হয়। যেমন: অ্যামাজন, রোলেক্স, গুগল, অ্যাপল। তবে তিন শব্দের বেশি হওয়া উচিত নয়।

ডোমেইনে আলফাবেটিক (a-z), নিউমেরিক (0-9) এবং স্পেশাল ক্যারেক্টার হিসেবে শুধু হাইফেন (-) ব্যবহার করা যায়। তবে শুরু এবং শেষে অবশ্যই আলফানিউমেরিক (a-z, 0-9) অক্ষর থাকবে। আদর্শ ডোমেইনে নিউমেরিক (0-9) ও স্পেশাল ক্যারেক্টার (-) ব্যবহার না করাই উত্তম।

কপিরাইট/ট্রেডমার্ক

যদি আপনি কোন নামকে ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চান, বিশেষত কোন কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করতে চান, তাহলে উক্ত নামটি কপিরাইট বা ট্রেডমার্কের আওতাভুক্ত কিনা তা জেনে নিবেন। না হয় পরবর্তীতে আইনি ঝামেলায় জড়িয়ে পড়তে পারেন।

কপিরাইট/ট্রেডমার্কের ক্ষেত্রে ডোমেইন কোন সমস্যা নয়। মূল সমস্যা হচ্ছে নাম। আপনি কপিরাইট বা ট্রেডমার্ক করা কোন নাম আইনগতভাবে ব্যবহার করার অধিকার রাখেন না।

আপনার ব্যবসা যদি লোকাল হয় তাহলে আপনি যে দেশে ব্যবসা পরিচালনা করবেন নামটি যদি সেই দেশের আইন দ্বারা কপিরাইট/ট্রেডমার্ক কর থাকে তাহলে ব্যবহার করতে পারবেন না।

যে সকল নাম US International Copyright Law দ্বারা সংরক্ষিত তা ব্যবহার করে কোন কোম্পানি পরিচালনা করতে পারবেন না। বিশেষত কোম্পানি যখন মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে পরিণত হবে। অথবা ওই নামের কপিরাইট সত্ত্ব পাওয়া কোম্পানি যদি আপনার দেশে ব্যবসা পরিচালনা করতে আসে তখন আইনগত ভাবে আপনি নামটি হারাবেন।

গুগল, ফেসবুক, অ্যাপল সহ সকল নামি-দামি প্রতিষ্ঠানের নাম, স্লোগান, লোগো সহ অন্যান্য সেবার নাম US International Copyright Law দ্বারা সংরক্ষিত। https://www.trademarks411.com/ দ্বারা জানতে পারবেন কোন কোন নাম এই আইন দ্বারা সংরক্ষিত।

কোম্পানির নাম ও সেবা

আপনার ব্যবসা যদি লোকাল হয় এবং আপনার প্রতিষ্ঠান বা ব্র্যান্ডের নাম ও সেবা যদি ওই দেশের কপিরাইট ও ট্রেডমার্ক এবং US International Copyright Law দ্বারা সংরক্ষিত কোন প্রতিষ্ঠানের নাম ও সেবার কাছাকাছি হয় তাহলে উক্ত প্রতিষ্ঠান আপনার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবেন। তাই নাম নির্বাচনের পূর্বে এ বিষয়ে সতর্ক হোন।

যেমন আজকেরডিল বাংলাদেশের একটি ই-কমার্স মার্কেটপ্লেস। এখন আপনি যদি আপনার প্রতিষ্ঠানের নাম রাখেন আইজকেরডিল এবং আপনারও ব্যবসার মূল বিষয় হয় ই-কমার্স। সেক্ষেত্রে আজকেরডিল আপনার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে পারবে।

এক্সটেনশন নির্বাচন

সার্চ ইঞ্জিন জায়ান্ট গুগলের মতে, ডোমেইন এক্সটেনশন সার্চ ইঞ্জিন র‌্যাংকিংয়ে কোন প্রভাব ফেলে না। তাই আপনি আপনার প্রতিষ্ঠানের সেবার ধরন অনুযায়ী যে কোন এক্সটেনশন ব্যবহার করতে পারেন। .com, .net, .org, .info এগুলো হচ্ছে ডোমেইন এক্সটেনশন।

এক একটি এক্সটেনশন দ্বারা সাধারণত এক একটি সেবা বা কাজের ধরন প্রকাশ করা হয়। যেমন: কোন কমার্সিয়াল প্রতিষ্ঠানের জন্য .com, নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠানের জন্য .net, অরগানাইজেশনের জন্য .org ইত্যাদি।

বহুল ব্যবহৃত ডোমেইন এক্সটেনশন হচ্ছে .com. আপনার কাঙ্ক্ষিত নামটি যদি .com এক্সটেনশনে খালি থাকে তাহলে এটি নির্বাচন করাই উত্তম।

ডোমেইন নাম : Nacket নাকি FQDN

www. ছাড়া ডোমেইন নামকে Nacket Domain বলা হয়। আর যখন www. ব্যবহার করা হয় তখন FQDN বা Fully Qualified Domain Name বলা হয়। গুগলের মতে, Nacket বা FQDN সার্চ র‌্যাংকিংয়ে কোন প্রভাব ফেলে না। তাই আপনি যে কোনটি ব্যবহার করতে পারেন।

খেয়াল রাখবেন Nacket বা FQDN যেন অবশ্যই Canonical URL করা থাকে। অর্থাৎ আপনি যদি Nacket Domain ব্যবহার করে থাকেন তাহলে যদি কেউ FQDN অর্থাৎ www. সহ ডোমেইন টাইপ করে তাহলে যেন অটোমেটিক্যালি তা ন্যাকেট ডোমেইনে রিডিরেক্ট হয়।

আর যদি আপনি FQDN ব্যবহার করে ওয়েবসাইট তৈরি করেন তাহলে যদি কেউ Nacket Domain অর্থাৎ www. ছাড়া ডোমেইন টাইপ করে ব্রাউজ করে তাহলে যেন তা অটোমেটিক্যালি রিডিরেক্ট হয়ে www. এ চলে আসে। আমার মতে, ডোমেইন নাম হিসেবে FQDN ব্যবহার করাই ভালো।

মন্তব্য করুন