সুন্দর একটি বাড়ি বানানো আপনার অনেক দিনের স্বপ্ন। বাড়ির জন্য সুন্দর একটি নাম পছন্দ করেছেন। ডিজাইন কেমন হবে, কোথায় কী আসবাবপত্র থাকবে সে প্ল্যান করাও শেষ। এখন বাড়িটি নির্মাণ জন্য প্রয়োজন একখণ্ড জমি।

এখানে আমরা ওয়েবসাইটকে যদি একটি বাড়ির সাথে তুলনা করি, তাহলে নাম হচ্ছে এর ডোমেইন। ওয়েবসাইটের আউটলুক হচ্ছে ডিজাইন। কনটেন্ট হচ্ছে আসবাবপত্র।

এখন আমাদের এই ওয়েবসাইটকে অনলাইনে রাখার জন্য একখণ্ড ভার্চুয়াল স্পেসের দরকার হবে। ইন্টারনেটের পরিভাষায় এই ভার্চুয়াল স্পেস হচ্ছে হোস্টিং।

ওয়েবসাইটের পারফরম্যান্স সিংহভাগ তার হোস্টিংয়ের ওপর নির্ভর করে। তাই ওয়েবসাইটের জন্য সঠিক হোস্টিং নির্বাচন করা খুব গুরুত্বপূর্ণ।

একটি ব্লগ বা ওয়েবসাইটের জন্য কীভাবে সেরা হোস্টিং প্যাকেজ ও কোম্পানি নির্বাচন করতে হয় তা এই লেখায় বিস্তারিত আলোচনা করা হবে। চলুন একনজরে দেখে নিই কী কী থাকছে পুরো আলোচনায়।

মূল আলোচনায় যাওয়ার আগে হোস্টিং কী ও কেন প্রয়োজন, হোস্টিং কীভাবে কাজ করে এই সকল বিষয় সম্পর্কে ধারণা থাকা প্রয়োজন।

ওয়েব হোস্টিং মূলত কী?

হোস্টিং বা ওয়েব হোস্টিং হচ্ছে অনলাইনে এমন একটি ভার্চুয়াল স্থান যেখানে আপনার ওয়েবসাইটের সব কিছু (ডিজাইন, কনটেন্ট ইত্যাদি) জমা থাকে। এই স্থান থেকেই ইউজারের অনুরোধের ভিত্তিতে ডেটাগুলো ব্রাউজারে প্রদর্শিত হয়।

ডোমেইন যদি আপনার ওয়েবসাইটের ঠিকানা হয়, তাহলে ওয়েব হোস্টিং হচ্ছে ওই ঠিকানার বাস্তবরূপ।

উদাহরণ: ধরুন আপনার বাড়ির ঠিকানা হচ্ছে “বণিক বাড়ি, ঢাকা – ১২১৯”। এখন বাস্তবে এই ঠিকানায় আপনার বাড়ির উপস্থিতিই হচ্ছে হোস্টিং।

হোস্টিং কেন প্রয়োজন?

এটি কেন প্রয়োজন তা বুঝতে হলে আগে জানতে হবে এটি কী কাজ করে।

ওয়েব হোস্টিংয়ের কাজ হচ্ছে অনলাইনে আপনার ওয়েবসাইটের সমস্ত ডেটা ও কনটেন্ট হোস্ট করা। এবং কোন ব্যাবহারকারীর অনুরোধ যাচাই করে সঠিক তথ্যটি ব্রাউজারে পাঠানো।

অর্থাৎ, আপনার ওয়েবসাইটকে অনলাইনে সচল রাখতে অবশ্যই একটি হোস্টিংয়ের প্রয়োজন।

হোস্টিং কীভাবে কাজ করে?

একটি ওয়েবসাইট মূলত ডোমেইন, হোস্টিং ও কিছু ফাইলের (কোড, ইমেইজ, টেক্স ইত্যাদি) সমন্বয়ে গঠিত।

আমরা যখন ব্রাউজার ব্যাবহার করে কোন লিংক ভিজিট করি, তখন এটি গ্লোবাল নেটওয়ার্ক সার্ভারের কাছে একটি রিকোয়েস্ট পাঠায়। এরপর এই গ্লোবাল নেটওয়ার্ক সার্ভার ওই লিংকের সাথে সংশ্লিষ্ট ডোমেইনের ডিএনএস চেক করে। এবং এর হোস্টিং সার্ভারে রিকোয়েস্টটি ফরোয়ার্ড করে।

হোস্টিং সার্ভার তখন ওই ডোমেইনের আইপি অ্যাড্রেস চেক করে এবং সঠিক তথ্যটি খুঁজে বের করে ইউজারের ব্রাউজারে পাঠায়। আর এভাবেই আমরা কোন লিংকে থাকা তথ্য ব্রাউজারে দেখতে পাই।


রিকমেন্ডেড পোস্ট: ডোমেইন নাম নির্বাচন ও কেনায় সতর্কতা: স্টেপ-বাই-স্টেপ গাইড

আমরা নিজস্ব হোস্টিং সার্ভার স্থাপণ করে ওয়েবসাইটকে হোস্ট করতে পারি। তবে এই প্রক্রিয়া বেশ ব্যয়বহুল। এছাড়া সার্ভার রক্ষাণাবেক্ষণের জন্য দক্ষ জনবলের দরকার হয়। এই পদ্ধতির সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো সার্ভারের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা নিজের হাতে থাকে।

ওয়েবসাইট হোস্ট করার সবচেয়ে সহজ ও সুবিধাজনক পদ্ধতি হলো কোন হোস্টিং সার্ভিস কোম্পানির কাছ থেকে স্পেস ভাড়া নেওয়া। আমরা মূলত দুই ধরনের ওয়েব হোস্টিং সার্ভিস দেখে থাকি।

  • ফ্রি ওয়েব হোস্টিং সার্ভিস
  • পেইড ওয়েব হোস্টিং সার্ভিস

এ ধরনের হোস্টিং সার্ভিস ব্যবহার করার জন্য কোন মূল্য পরিশোধ করতে হয় না। তবে এক্ষেত্রে সার্ভিস প্রোভাইডারদের নিজস্ব কিছু শর্ত থাকতে পারে। যেমন:

১. সাব-ডোমেইন: এক্ষেত্রে কোম্পানি আপনাকে একটি ফ্রি সাব-ডোমেইন প্রোভাইড করবে। আপনি ওই সাব-ডোমেইনের অধীনে ব্লগ পরিচালনা করতে পারবেন।

আপনি নিজের ডোমেইন ব্যাবহার করতে চাইলে তাদের সাবস্ক্রিপশন গ্রহণ করতে হবে। অর্থাৎ, মাসিক বা বাৎসরিক হারে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ পরিশোধ করতে হবে।

এধরনের সার্ভিস প্রদান করে এমন কোম্পানির মধ্যে ব্লগার.কমওয়ার্ডপ্রেস.কম সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়।

২. স্পন্সরশীপ: এক্ষেত্রে আপনি নিজের ডোমেইন ব্যাবহার করতে পারবেন। তবে হোস্টিং কোম্পানি আপনার ওয়েবসাইটে তাদের ব্র্যান্ডিং এবং বিজ্ঞাপণ প্রদর্শণ করবে।

এছাড়াও কিছু কোম্পানি এধরনের কোন শর্ত ছাড়া কিছু সীমাবদ্ধতার ভিত্তিতে ফ্রি হোস্টিং প্রোভাইড করে। যেন আপনি তাদের সেবা ব্যাবহার করে মান যাচাই করতে পারেন।

ফ্রি হোস্টিং কাদের জন্য?
  • যারা হোস্টিং ও সিপ্যানেল সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা নিতে চাচ্ছেন।
  • যারা হোস্টিংয়ের জন্য কোন অর্থ খরচ না করে একটি ব্যক্তিগত ব্লগ পরিচালনা করতে চাচ্ছেন।
ফ্রি হোস্টিংয়ের সুবিধা
  • যেহেতু এটি ফ্রি। তাই এর জন্য কোন অর্থ খরচ করতে হয় না।
  • ব্লগার বা ওয়ার্ডপ্রেসের মতো প্লাটফর্মে কোন টেকনিক্যাল নলেজ ছাড়াই ব্লগ তৈরি করা যায়।
ফ্রি হোস্টিংয়ের অসুবিধা
  • ব্লগ বা ওয়েবসাইটের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ আপনার হাতে থাকবে না।
  • বিনা নোটিশে যেকোন সময় ব্লগ ডিলিট হতে পারে।

আপনি হোস্টিং প্যানেল ও এর ব্যাবহার সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা নিতে ফ্রি হোস্টিং ব্যাবহার করতে পারেন। এছাড়া ফ্রি হোস্টিং ব্যাবহার না করার পরামর্শ রইলো।

এগুলো প্রোফেশনাল মানের হোস্টিং। এই সার্ভিস গ্রহণের জন্য আপনাকে নির্দিষ্ট সময়ের (মাস, বছর ইত্যাদি) জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ পরিশোধ করতে হবে। বিশ্বের সিংহভাগ ব্লগ ও ওয়েবসাইট পেইড হোস্টিং সার্ভিস ব্যাবহার করে।

কাজের ধরন ও প্রয়োজন অনুযায়ী প্রোফেশনাল হোস্টিং কোম্পানিগুলো গ্রাহকদের বিভিন্ন ধরনের হোস্টিং প্ল্যান অফার করে থাকে। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে:

  • শেয়ার্ড হোস্টিং
  • ভিপিএস হোস্টিং
  • ডেডিকেটেড হোস্টিং
  • ক্লাউড হোস্টিং
  • ওয়ার্ডপ্রেস হোস্টিং
  • রিসেলার হোস্টিং

এই পদ্ধতিতে অনেকগুলো ওয়েবসাইট একটি হোস্টিং সার্ভারের স্পেস ও অন্যান্য রিসোর্স শেয়ার করে। এই পদ্ধতি বিশ্বব্যাপী সবচেয়ে জনপ্রিয় ও সর্বাধিক ব্যাবহৃত।

উদাহরণ: ধরুন, আপনি আপনার কিছু বন্ধুদের সাথে একটি ঘর ভাড়া নিয়ে থাকছেন। এখানে আপনি এবং আপনার প্রত্যেক বন্ধু হচ্ছেন এক একটি ওয়েবসাইট। আর আপনারা যে ঘরে থাকছেন সেটি একটি শেয়ার্ড হোস্টিং।

শেয়ার্ড হোস্টিং কাদের জন্য?
  • বিগিনার ও ছোট ওয়েবসাইটের জন্য আদর্শ।
  • প্রতিমাসে ১০,০০০ – ২০,০০০ ভিজিটর রয়েছে এমন ব্লগ বা ওয়েবসাইটের জন্য।
শেয়ার্ড হোস্টিংয়ের সুবিধা
  • দামে অন্যান্য প্ল্যানের চেয়ে বেশি সাশ্রয়ী।
  • টেকনিক্যাল নলেজ ছাড়াই সহজে ব্যাবহার করা যায়।
  • সহজ সেটআপ প্রক্রিয়া।
শেয়ার্ড হোস্টিংয়ের অসুবিধা
  • অন্যান্য ওয়েবসাইটের সাথে রিসোর্স শেয়ার করতে হয়।
  • পারফরম্যান্স ইস্যু নিজের নিয়ন্ত্রণের বাহিরে থাকে।
  • তুলনামূলক স্লো ও ডাউন টাইমের সমস্যা থাকে।

ভিপিএস (ভার্চুয়াল প্রাইভেট সার্ভার) হচ্ছে শেয়ার্ড হোস্টিংয়ের উপরের ধাপ। এখানে মূল সার্ভারের রিসোর্সের একটি অংশ আপনার ওয়েবসাইটের জন্য বরাদ্ধ থাকবে। যা অন্য কারো সাথে শেয়ার করতে হবে না।

উদাহরণ: ধরুন, আপনি একা কোন বিল্ডিংয়ের একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নিলেন। এই ফ্ল্যাটে যা কিছু আছে তা আপনি একা ব্যাবহার করতে পারবেন। অন্য কাউকে শেয়ার দিতে হবে না। এখানে পুরো ফ্ল্যাটটিকে একটি ভার্চুয়াল প্রাইভেট সার্ভার (ভিপিএস) হিসেবে কল্পনা করা যায়।

এখানেও মূল সার্ভার অন্যান্য ওয়েবসাইটের সাথে শেয়ার করতে হয়। তবে এখানে ওয়েবসাইটের সংখ্যা খুব কম থাকে।

উদাহরণ: আমরা যদি একটি বিল্ডিংকে মূল সার্ভার হিসেবে বিবেচনা করি, তাহলে ওই বিল্ডিংয়ের প্রত্যেকটি ফ্ল্যাট হচ্ছে এক একটি ভিপিএস।

ভিপিএস-এর ক্ষেত্রে মূলত মেইন সার্ভারকে ভার্চুয়ালি কিছু সার্ভারে রূপান্তরিত করা হয়।

ভিপিএস হোস্টিং কাদের জন্য?
  • প্রতিমাসে ৩০,০০০+ ভিজিটর রয়েছে এমন মাঝারি মানের ব্লগ বা ওয়েবসাইটের জন্য।
  • মাঝারি মানের কোন ই-কমার্স ওয়েবসাইটের জন্য।
  • যারা শেয়ার্ড হোস্টিংয়ের চেয়ে ভালো পারফরম্যান্স চাচ্ছেন তাদের জন্য।
ভিপিএস হোস্টিংয়ের সুবিধা
  • সার্ভারের রিসোর্সগুলো ডেডিকেটেড থাকে।
  • হাই আপটাইম পাওয়া যায় এবং সার্ভার বেশ দ্রুত লোড হয়।
  • সার্ভারের কাস্টম কনফিগারেশন করা যায়।
ভিপিএস হোস্টিংয়ের অসুবিধা
  • শেয়ার্ড হোস্টিংয়ের চেয়ে কমপ্লেক্স সেটআপ প্রক্রিয়া।
  • এখানেও সার্ভারকে অন্য ওয়েবসাইটের সাথে শেয়ার করতে হয়।
  • সার্ভারের কনফিগারেশন পরিবর্তনেও সীমাবদ্ধতা রয়েছে।

ডেডিকেটেড হোস্টিংয়ের ক্ষেত্রে আপনার জন্য একটি আলাদা সার্ভার সেটআপ করা হবে। এখানে অন্য কোন ওয়েবসাইট হোস্ট করা হবে না। অর্থাৎ, সম্পূর্ণ সার্ভারের সকল রিসোর্স শুধুমাত্র আপনি একা ব্যাবহার করবেন।

উদাহরণ: ধরুন, আপনি কোন রিয়েল স্টেট কোম্পানি দিয়ে নিজের জন্য একটি বাড়ি নির্মাণ করলেন। এখন এই সম্পূর্ণ বাড়ির একক মালিকানা আপনার।

ডেডিকেটেড হোস্টিং কাদের জন্য?
  • বৃহৎ আকারের কোন ওয়েবসাইটের জন্য।
  • বৃহৎ ইউজার ডেটাবেজ রয়েছে এমন ই-কমার্স ওয়েবসাইটের জন্য।
  • খুব বেশি সিকিউরিটি প্রয়োজন এমন কোন ওয়েবসাইটের জন্য।
ডেডিকেটেড হোস্টিংয়ের সুবিধা
  • সিকিউরিটি ব্যবস্থা সবচেয়ে ভালো।
  • সবচেয়ে ভালো পারফরম্যান্স পাওয়া যায়।
  • সার্ভার কনফিগারেশনে সীমাবদ্ধতা থাকে না।
ডেডিকেটেড হোস্টিংয়ের অসুবিধা
  • খরচ অনেক বেশি।
  • সার্ভার রক্ষনাবেক্ষণ বেশি কমপ্লিকেটেড।

এটি একটি নতুন কনসেপ্টের ওয়েব হোস্টিং সার্ভিস। এই পদ্ধতিতে ওয়েবসাইটের ডেটাকে একটি সার্ভারের পরিবর্তে বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে ডেটা সেন্টার স্থাপণ করে রাখা হয়। প্রত্যেক ডেটা সেন্টারে মূল সার্ভারের ডেটা কপি করে রাখা হয়। যেন ইউজারের কাছাকাছি ডেটা সেন্টার থেকে খুব দ্রুত ডেটা ব্রাউজারে পাঠানো যায়।

উদাহরণ: এক্ষেত্রে একটি ব্র্যান্ড শপকে কল্পনা করুন যাদের বাংলাদেশের প্রত্যেক জেলায় ব্র্যাঞ্চ রয়েছে। এখন আপনার বাসা যদি বরিশাল হয়, তাহলে ঢাকা থেকে পণ্য পাঠানোর তুলনায় বরিশাল থেকে পণ্য পাঠালে সময় কম লাগবে।

ক্লাউড হোস্টিং কাদের জন্য?
  • দ্রুত ব্যবহারকারী বাড়ছে এমন মাঝারি এবং বড় ওয়েবসাইটের জন্য।
  • শেয়ার হোস্টিংয়ের চেয়ে পারফরম্যান্স ভালো চাচ্ছেন কিন্তু ভিপিএস হোস্টিং ব্যাবহার করার বাজেট নেই তাদের জন্য।
  • ৫০,০০০+ প্রতিমাসে ভিজিটর রয়েছে এমন ব্লগ বা ওয়েবসাইটের জন্য আদর্শ।
ক্লাউড হোস্টিংয়ের সুবিধা
  • ওয়েবসাইট ডাউন টাইমের পরিমাণ খুবই কম।
  • হঠাৎ ইউজারের পরিমাণ রেড়ে গেলেও ওয়েবসােইটের পারফরম্যান্সে তেমন কোন প্রভাব পড়ে না।
ক্লাউড হোস্টিংয়ের অসুবিধা
  • আনপেডিকটাবল ট্রাফিকের কারণে খরচ বেড়ে যেতে বাড়ে।
  • ডেডিকেটেড বা ভিপিএস হোস্টিংয়ের মতো সার্ভার কনফিগারেশনের সুযোগ থাকে না।

এটি মূলত ওয়ার্ডপ্রেসের জন্য বিশেষভাবে অপটিমাইজড করা ওয়েব সার্ভার। সাধারণত ২ প্রকারের ওয়ার্ডপ্রেস হোস্টিং দেখা যায়।

  • শেয়ার্ড ওয়ার্ডপ্রেস হোস্টিং: এটি সাধারণ শেয়ার্ড হোস্টিংয়ের মতো। তবে এখানে প্রি-ইনস্টল ওয়ার্ডপ্রেস থাকতে পারে।
  • ম্যানেজড ওয়ার্ডপ্রেস হোস্টিং: ম্যানেজড ওয়ার্ডপ্রেস হোস্টিং ওয়ার্ডপ্রেস সাইটের জন্য সিকিউরিটি, পারফরম্যান্স, ক্যাশ ইত্যাদি সম্পূর্ণ অপটিমাইজড করা থাকে। ফলে সাইট খুব দ্রুত লোড হয় এবং পারফরম্যান্স ভালো পাওয়া যায়।
ওয়ার্ডপ্রেস হোস্টিং কাদের জন্য?
  • যারা শুধুমাত্র ওয়ার্ডপ্রেস ব্যাবহার করবেন।
  • ওয়ার্ডপ্রেস সাইটে যারা ভালো সিকিউরিটি এবং পারফরম্যান্স চান।
ওয়ার্ডপ্রেস হোস্টিংয়ের সুবিধা
  • ওয়ার্ডপ্রেসের জন্য সম্পূর্ণ অপটিমাইজ করা।
  • ওয়ার্ডপ্রেসের জন্য ভালো সিকিউরিটি ও পারফরম্যান্স পাওয়া যায়।
ওয়ার্ডপ্রেস হোস্টিংয়ের অসুবিধা
  • দাম শেয়ার্ড হোস্টিংয়ের চেয়ে বেশি হয়ে থাকে।
  • সার্ভারের ওপর কন্ট্রোল কম থাকে।
  • অন্যান্য ওয়েবসাইটের সাথে সার্ভারের রিসোর্স শেয়ার করতে হয়।

এই প্ল্যান অবশ্যই সবার জন্য নয়। নিজস্ব সার্ভার সেটআপ না করে যারা হোস্টিং ব্যবসা করতে চাচ্ছেন তাদের জন্য রিসেলার হোস্টিং।

রিসেলার প্যাকেজে আপনার নিজস্ব একটি কন্ট্রোল প্যানেল থাকবে, যার মাধ্যমে আপনি নতুন হোস্টিং প্যাকেজ, স্পেস ও দাম নির্ধারণ করতে পারবেন। এক কথায়, হোস্টিং ব্যবসা করার জন্য যাবতীয় সুবিধা থাকবে।

রিসেলার হোস্টিং কাদের জন্য?
  • যারা ডেটা সেন্টার স্থাপণ না করে হোস্টিং ব্যবসা করতে চাচ্ছেন।
রিসেলার হোস্টিংয়ের সুবিধা
  • ডেটা সেন্টার স্থাপণ ও রক্ষাণাবেক্ষণের চিন্তা করতে হয় না।
  • নিজস্ব হোস্টিং স্পেসের প্রয়োজন মিটিয়ে অন্যের কাছে বিক্রি করে প্রফিট করা যায়।
রিসেলার হোস্টিংয়ের অসুবিধা
  • অনেক ক্লায়েন্ট ম্যানেজ করার প্রয়োজন হয়।
  • ব্যবসা পরিচালনা করার জন্য দক্ষ জনবলের দরকার হয়।

এর উত্তর অবশ্যই আপনার প্রয়োজন এবং ওয়েবসাইটের ধরনের ওপর ভিত্তি করে ভিন্ন হবে। এটি সম্পূর্ণ নির্ভর করে আপনার ওয়েবসাইট কী ধরনের, কী পরিমাণ রিসোর্স আপনি ব্যাবহার করতে চাচ্ছেন, আপনার ওয়েবসাইটের ট্রাফিক এবং বাজেটের ওপর।

উপরে প্রত্যেক প্ল্যান সম্পর্কে একটি বেসিক ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। প্রয়োজনে আবার পড়ে সিদ্ধান্ত নিন।

হোস্টিং কেনার পূর্বে প্রথমে জানতে হবে আপনার প্রয়োজন কী? আপনার ওয়েবসাইট বা ব্যবসার ধরন অনুযায়ী আপনাকে হোস্টিং প্যাকেজ নির্বাচন করতে হবে। প্রয়োজনের অতিরিক্ত রিসোর্স (স্পেস ও অন্যান্য কনফিগারেশন) ভাড়া নিলে বাড়তি মূল্য গুনতে হবে। আবার প্রয়োজনের চেয়ে কম নিলে ওয়েবসাইটের পারফরম্যান্স খারাপ হবে।

এখানে শেয়ার্ড হোস্টিং কেনার সময় কোন কোন বিষয় খেয়াল রাখা উচিত তা নিয়ে আলোচনা করছি। অন্যান্য প্ল্যানের ক্ষেত্রেও এই বিষয়গুলো প্রাধান্য পাবে।

ক্রয় ও রিনিউয়াল মূল্য

হোস্টিং কেনার সময় অবশ্যই রিনিউ করতে কতো টাকা চার্জ করবে তা চেক করে নিবেন। অধিকাংশ কোম্পানি প্রথমবার কেনার সময় ডিসকাউন্ট দিয়ে থাকে। যেন নামমাত্র মূল্যে তাদের সেবা ব্যাবহার করে কোয়ালিটি চেক করতে পারেন।

তাই রিনিউয়াল মূল্য আপনার বাজেট অতিক্রম করবে কিনা তা বুঝে নিন।

হোস্টিং প্যাকেজ তথ্য

হোস্টিং কোম্পানিগুলো একই প্ল্যানের অনেকগুলো প্যাকেজ অফার করে থাকে। প্যাকেজ অনুযায়ী কিছু বাড়তি সুবিধা যোগ হয়। তাই আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক প্যাকেজটি নির্বাচন করুন।

প্যাকেজ নির্বাচন করার সময় কিছু বিষয় খেয়াল রাখুন।

  • স্পেস: ডেটা হোস্ট করার জন্য কতোটুকু জায়গা দিচ্ছে।
  • ব্যান্ডউইথ: ওয়েবসাইট প্রতিমাসে কী পরিমাণ ডেটা ট্রান্সফার করতে পারবে তার লিমিট।
  • অ্যাডঅন ডোমেইন: মূল ডোমেইনের পাশাপাশি আর কয়টি ডোমেইন অ্যাড করতে পারবেন।
  • সাব-ডোমেইন: মূল ডোমেইনের কতোগুলো সাব-ডোমেইন বানাতে পারবেন। যেমন: hello.bloggerzia.com হচ্ছে bloggerzia.com এর সাব-ডোমেইন।
  • এফটিপি অ্যাকাউন্ট: রিমুটলি (যেমন: ডেস্কটপ থেকে হোস্টিং সার্ভার) ফাইল ট্রান্সফার করার জন্য এফটিপি অ্যাকাউন্ট ব্যাবহৃত হয়।
  • ইমেইল অ্যাকাউন্ট: আপনার ডোমেইন ব্যাবহার করে কতগুলো ব্র্যান্ড ইমেইল তৈরি করতে পারবেন।
  • ইমেইল সেন্ডিং লিমিট: সিপ্যানেল থেকে প্রতি ঘণ্টায় কয়টি ইমেইল পাঠাতে পারবনে। ই-কমার্স বা এধরনের সাইটের জন্য এই বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।
  • র‌্যাম ও সিপিউ কোর লিমিট: প্রতি সেকেন্ডে সর্বোচ্চ কতটুকু র‌্যাম ও সিপিইউ রিসোর্স ব্যাবহার করতে পারবেন তার লিমিট।
  • আই/ও লিমিট: প্রতি সেকেন্ডে সর্বোচ্চ কতটুকু ডেটা ট্রান্সফার করতে পারবেন তার লিমিট।
  • এসএসএল সার্টিফিকেট: বর্তমানে এসএসএল যেকোন ওয়েবসাইটের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। দেখে নিবেন কোম্পানি আপনাকে ফ্রি এসএসএল সার্টিফিকেট দিচ্ছে কিনা। ব্লগ বা ছোট ওয়েবসাইটের জন্য ফ্রি এসএসএল-ই যথেষ্ট। তবে ই-কমার্স জাতীয় সাইটের জন্য পেইড এসএসএল ব্যাবহারের পরামর্শ থাকলো।
  • আপটাইম: সার্ভার গড়ে কতটুকু সময় অনলাইনে থাকবে। ৯৯.৯% এর চেয়ে ৯৯.৯৯% আপটাইম বেটার।
সিপ্যানেল

সিপ্যানেল হচ্ছে আপনার হোস্টিংয়ের কন্ট্রোল প্যানেল। সিপ্যানেল যুক্ত শেয়ার্ড হোস্টিং সবচেয়ে জনপ্রিয়। ব্যাবহার করাও সহজ।

কোম্পানি সিপ্যানেলে কী কী সুবিধা দিচ্ছে সে বিষয়ে জানতে হবে। এখানে কমন কিছু বিষয় উল্লেখ করছি।

  • সফটাকুলাস: এর সাহায্যে ওয়ার্ডপ্রেস ও অন্যান্য জনপ্রিয় সিএমএস (কনটেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম) খুব সহজে ইনস্টল করা যায়।
  • ব্যাকআপ: ওয়েবসাইটের যাবতীয় ডেটা অটো ব্যাকআপ রাখার সুবিধা আছে কিনা জেনে নিবেন।
  • অন্যান্য: সিপ্যানেলের অন্যান্য সুবিধার মধ্যে ফায়ারওয়াল প্রোটেকশন, ইমেইজ হটলিংক, সিডিএন ব্যাবহারের সুবিধা ইত্যাদি বিষয়গুলো জেনে নিতে পারেন।
কাস্টমার সাপোর্ট

হোস্টিং কেনার পূর্বে তাদের সাথে মেইলে যোগযোগ করে ও সরাসরি কথা বলে তাদের সাপোর্ট টিম সম্পর্কে একটা আইডিয়া নিতে পারেন।

আপগ্রেশন সুবিধা

ইউজারের সংখ্যা বেড়ে গেলে যে কোন সময় প্যাকেজ আপগ্রেড করতে হতে পারে। তাই জেনে নিবেন যেকোন সময় প্যাকেজ আপগ্রেশনের সুবিধা রয়েছে কিনা।

রিফান্ড পলিসি

এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কারণ তাদের সার্ভিস খারাপ হলে যে কোন সময় অন্য কোম্পানিতে ওয়েবসাইট ট্রান্সফার করার প্রয়োজন হতে পারে।

তাই সার্ভিস নেওয়ার আগে মানিব্যাক গ্যারান্টি আছে কিনা জেনে নিবেন।

ফোরাম সার্চ

কোন প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে জানার সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হচ্ছে ফোরাম। হোস্টিং কেনার পূর্বে অনলাইনে সার্চ করে বিভিন্ন ফোরাম থেকে ওই প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে একটি ধারণা নিতে পারেন।

এ অংশে আমরা ব্লুহোস্ট ব্যাবহার করে একটি শেয়ার্ড হোস্টিং প্যাকেজ কেনার প্রতিটি স্টেপ দেখবো। আপনি পছন্দ অনুযায়ী যে কোন কোম্পানির সার্ভিস ব্যাবহার করতে পারেন। প্রত্যেক কোম্পানির কমন স্টেপগুলো প্রায় একই।

  • স্টেপ # ১: ব্লুহোস্ট.কম সাইটে যান।
  • স্টেপ # ২: উপরের মেনু থেকে Hosting > Shared Hosting-এ যান।
ব্লুহোস্ট শেয়ার্ড হোস্টিং
শেয়ার্ড হোস্টিং মেনু
  • স্টেপ # ৩: আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী যে কোন একটি প্ল্যান পছন্দ করুন।
ব্লুহোস্ট শেয়ার্ড হোস্টিং প্যাকেজ
একটি প্ল্যান পছন্দ করুন
  • স্টেপ # ৪: নতুন ডোমেইন কিনতে Create a new domain ঘরে কাঙ্ক্ষিত ডোমেইনটি লিখুন ও এক্সটেনশন নির্বাচন করুন। আপনার অলরেডি আছে এমন কোন ডোমেইন ব্যাবহার করতে চাইলে Use a domain you own ঘরে লিখে Next ক্লিক করুন। আর যদি এখন কোন ডোমেইন যোগ করতে না চান তাহলে I’ll create my domain later ক্লিক করুন।
ব্লুহোস্ট শেয়ার্ড হোস্টিংয়ে ডোমেইন যোগ
ডোমেইন যোগ করুন
  • স্টেপ # ৫.১: Account Information অংশে আপনার প্রয়োজনীয় তথ্য দিন। অথবা Sign in with Google দিয়ে লগইন করুন।
ব্লুহোস্ট শেয়ার্ড হোস্টিংয়ে অ্যাকাউর্ট ইনফরমেশন যোগ করা
অ্যাকাউন্ট ইনফরমেশন
  • স্টেপ # ৫.২: Package Information থেকে Account Plan পছন্দ করুন।
ব্লুহোস্ট শেয়ার্ড হোস্টিংয়ের প্যাকেজ ইনফরমেশন
প্যাকেজ ইনফরমেশন
  • স্টেপ # ৫.৩: Package Extras থেকে কোন এক্সট্রা সার্ভিস নিতে চাইলে টিকমার্ক দিন।
ব্লুহোস্ট শেয়ার্ড হোস্টিংয়ের সাথে এক্সট্রা সার্ভিস
প্যাকেজ এক্সট্রা
  • স্টেপ # ৫.৪: Payment Information অংশে আপনার কার্ডের তথ্য দিন।
ব্লুহোস্ট শেয়ার্ড হোস্টিং পেমেন্ট
পেমেন্ট ইনফরমেশন
  • স্টেপ # ৫.৫: Terms of Service, Cancellation Policy, Privacy Notice ভালো করে পড়ে ও বুঝে টিক দিন। সবশেষে Submit করুন।
ব্লুহোস্ট শেয়ার্ড হোস্টিং প্রাইভেসি পলিসি এবং টার্ম অ্যান্ড কন্ডিশন
অ্যাগ্রিমেন্ট

সবকিছু ঠিক থাকলে পেমেন্ট ও হোস্টিং সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য ইমেইলে জানিয়ে দেওয়া হবে।

হোস্টিং নিয়ে একদম নতুনদের সাধারণ কিছু জিজ্ঞাসা থাকতে পারে। অনুমান করে এমন কিছু প্রশ্নের উত্তর এ অংশে দিচ্ছি।

আপনার যদি ব্লগিং নিয়ে দীর্ঘ মেয়াদী কোন পরিকল্পনা থাকে তাহলে অবশ্যই পেইড ডোমেইন ও হোস্টিং ব্যাবহার করা উচিত হবে।

শখের বসে ব্লগিং শুরু করে পরবর্তীতে তা ক্যারিয়ার হিসেবে বেছে নিয়েছেন এমন উদাহরণ অনেক আছে।

তবে আপনি যদি একান্তই ব্যক্তিগত লেখালেখির কাজে ব্লগিংকরতে চান এবং এর পিছনে অর্থ খরচ করার কোন ইচ্ছা না থাকে তাহলে ব্লগার.কম ব্যাবহার করতে পারেন। এক্ষেত্রে নিজস্ব ডোমেইন ব্যাবহার করার পরামর্শ থাকলো।

হোস্টিংয়ের ক্ষেত্রে পারফরম্যান্স মূখ্য বিষয়। যদি পারফরম্যান্স ভালো হয় তাহলে অবশ্যই ব্যাবহার করতে পারেন।

তবে সাধারণত সেবার মানের সাথে দামের একটি সম্পর্ক আছে। খুব কম দামে ভালো সার্ভিস দেওয়া কখনো সম্ভব হয় না।

হ্যাঁ, করা যায়। ডোমেইনের মতো এক্ষেত্রে কোন বাধ্যবাধকতা নেই।

এটি আপনার ওয়েবসাইটের ধরন এবং কী পরিমাণ ডেটা থাকবে তার ওপর নির্ভর করে।

আপনি যদি ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে ব্লগিং শুরু করতে চান, সেক্ষেত্রে প্রথমে ১ জিবি স্পেস নিয়ে শুরু করতে পারেন। তবে ৫০০ এমবি এর কম স্পেস নেওয়া ঠিক হবে না।

আর আপনার ওয়েবসাইট যদি ৫-৭ পেজের একটি স্ট্যাটিক ওয়েবসাইট হয়, যেখানে ১৫-২৫ টি ইমেইজ থাকতে পারে, তাহলে ৫০ এমবি স্পেস হলেও চলবে।


এই লেখায় হোস্টিং নিয়ে আমি যতটুকু জানি তা তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। এ ব্যাপারে আপনার কী মতামত তা কমেন্ট বক্সে লিখে জানাতে পারেন।

মন্তব্য করুন