ডোমেইন এবং হোস্টিং কী? বাস্তাব জীবনের সাথে তুলনা করে প্রাথমিক আলোচনা।

ডোমেইন এবং হোস্টিং। অনেকে ডোমেইন এবং হোস্টিং এক জিনিস মনে করলেও প্রকৃতপক্ষে দু’টো আলাদা জিনিস। এ দুটোর সমন্বয়ে একটি ওয়েবসাইট তৈরি করা সম্ভব। কারণ নতুন অনেকেই মনে করেন ডোমেইন কিনলেই বুঝি হোস্টিং হয়ে যায় এবং ওয়েবসাইট তৈরি করা সম্ভব। আসলে ডোমেইন এর সাথে হোস্টিং সম্পর্কিত হওয়ায় এই দু’টো শব্দ একই সাথে উচ্চারিত হয়। তাই নতুনরা এমনটা মনে করেন। এবার আমি যতটুকু বুঝি তার আলোকে ডোমেইন এবং হোস্টিং নিয়ে সাধারণ আলোচনা করবো। আর আমি ভুল করলে তা সংশোধন করার জন্য অভিজ্ঞজন সাদরে আমন্ত্রিত।

আমরা যদি মোবাইল ফোন ব্যবহার করে অন্যের সাথে যোগাযোগ করতে চাই সেক্ষেত্রে আমাদের প্রধাণত দু’টো জিনিস লাগে। এক - সিম এবং দুই - মোবাইল সেট। এখানে আমরা আমাদের সিমকে ডোমেইন এবং মোবাইল সেটকে হোস্টিংয়ের সাথে তুলনা করতে পারি। আপনি যদি শুধু সিম বা শুধু মোবাইল কিনেন তাহলে কিন্তু আপনি অন্যের সাথে মোবাইল ফোন ব্যবহার করে যোগাযোগ করতে পারবেন না। আপনাকে অবশ্যই এই দু’টো জিনিস লাগবে। আবার আপনার এ দু’টো জিনিস থাকলেও হবে না; আপনাকে অবশ্যই আপনার সিমটি আপনার মোবাইলে ইনসার্ট করতে হবে। ঠিক তেমনি আপনি যদি ডোমেইন এবং হোস্টিং উভয়ই কিনেন যতক্ষণ না আপনার ডোমেইন নেমটি আপনার হোস্টিংয়ে সঠিকভাবে সেটআপ করবেন ততোক্ষণ পর্যন্ত আপনিও আপনার ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অন্যের সাথে যোগাযোগ স্থাপণ করতে পারবেন না।

অবশ্যই শুনেছেন ডোমেইন নেম বিভিন্ন রকম হয়। যেমন: .com .net .org .info ইত্যাদি। আমরা যে সিম ব্যবহার করি তাও কিন্তু বিভিন্ন অপারেটরের হয়। যেমন: 015 016 017 018 019। অনেকেই মনে করে যদি একটি ডোমেইন কিনি তাহলে মনে হয় ওই নামটা অন্য কেউ নিতে পারে না। একদম নির্দিষ্ট করে বললে FQDN (Fully Qualified Domain Name) অন্য কেউ নিতে পারে না। কিন্তু চাইলে নামটা নিতে পারে। যেমন আপনি যে সিম নাম্বারটি ব্যবহার করেন সেই নাম্বারটি কিন্তু পৃথিবীতে একটাই। কিন্তু এর সাথে মিল রেখে অন্য কোম্পানির সিম নাম্বার হতে পারে। ধরুন আপনি গ্রামীন ফোনের 017xxxxxxxx নাম্বারটি ব্যবহার করেন। এখন অন্য কেউ চাইলে কিন্তু বাংলালিংকের 019xxxxxxxx নাম্বারটি কিনে ব্যবহার করতে পারে। এখন আপনি বলতে পারেন আমার নাম্বারটা গ্রামীণ xxxxxxxx আর অন্যজন বলতে পারে আমার নাম্বারটা বাংলালিংক xxxxxxxx. ঠিক তেমনি আপনি যদি amardomain এই নামটা .com এ পছন্দ করেন এবং কিনেন সেক্ষেত্রে আপনি কিন্তু শুধু .com এর জন্য amardomain এই নামটার মালিক। অন্য কেউ চাইলে অবশ্যই amardomain এই নামটা .net বা .info দিয়ে কিনতে পারেন। মোবাইল ফোন জনপ্রিয় হওয়ার প্রথম দিকে আমি যখন কারো নাম্বার নিতাম তখন প্রথমেই মোবইলে 017 তুলে রাখতাম। কারণ অধিকাংশ লোকই গ্রামীণফোন সিম ব্যবহার করতেন। ঠিক তেমনি আপনি যখন একটি ডোমেইন নেম বলবেন তখন প্রায় সবাই প্রথমে সেটি .com এ মনে করবে। ধরুন আপনি একটি সুন্দর নাম্বার ব্যবহার করেন। যেমন: 11223344. ধরলাম এটা এয়ারটেল নাম্বার। আমি বললাম ‘বাহ! নাম্বারটা তো সুন্দর!’ কিন্তু পরে আমি 11223344 এটা মনে করতে পারলেও কোন অপারেটর তা মনে করতে পারলাম না। কিন্তু আপনার যদি সবগুলো অপারেটরের (বিশেষ করে গ্রামীনের) সেম নাম্বার থাকতো তাহলে আমি যে কোন একটি অপারেটর দিয়ে কল করলেই আপনাকে পেতাম। তেমনি আপনি যদি আপনার ডাইরেক্ট ভিজিটর না হারাতে চান সেক্ষেত্রে সম্ভব হলে সকল জনপ্রিয় এক্সটেনশন ব্যবহার করে ডোমেইন কিনে রাখুন। আর যদি সম্ভব না হয় তাহলে .com ব্যবহারের চেষ্টা করুন।

এবার আসি হোস্টিং এ। আগেই বলেছি হোস্টিংকে আমরা মোবাইল সেটের সাথে তুলনা করতে পারি। আসলেই হোস্টিংটা এরকম কিছু একটা। আপনি যেমন আপনার ফোনে আপনার ডেটা সংরক্ষণ করতে পারেন। তেমনি আপনি আপনার হোস্টিংয়েও আপনার প্রয়োজনীয় ডেটা সংরক্ষণ করতে পারবেন। হোস্টিংয়ের মূল কাজই হচ্ছে আপনার ওয়েবসাইটকে সক্রিয় রাখা এবং ডেটা সংরক্ষণ করা। আমরা কিন্তু মোবাইল সেটেও ভিন্নতা দেখি। কোনটা ক্ল্যাসিক ফোন। কোনটা ফিচার ফোন। কোনটা একটু বেশি উন্নত ফিচার ফোন। আবার কোনটা স্মার্টফোন। তেমনি হোস্টিংয়েও ভিন্নতা রয়েছে। যেমন: শেয়ারড হোস্টিং, ভিপিএস (VPS - Virtual Private Server), ডেডিকেটেড ইত্যাদি। এছাড়াও হোস্টিংয়ে বর্তমানে নতুন এবং জনপ্রিয় ভার্সন হচ্ছে ক্লাউড হোস্টিং। এ ব্যাপারগুলো নিয়ে আমি এ পর্বে বিস্তারিত আলোচনা করবো না। আর আপাতত আমার এ বিষয়ে ভালো অভিজ্ঞতা নেই বললেও চলে।

এবার একটু চেষ্টা করি ওয়েব ডিজাইন নিয়ে হালকা আলোচনা করার। আসলে আমি এ ব্যাপারে একেবারেই আনকোড়া। আমরা আমাদের মোবাইল ফোনে জনপ্রিয় কিছু অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করি। যেমন: অ্যান্ড্রয়েড, আইওস, ব্ল্যাকবেরি, জাভা, টাইজেন ইত্যাদি। এগুলোকে আমরা এক একটা সিএমএস বলতে পারি। আমরা যেমন আমাদের পছন্দমতো থিম এবং আরও অন্যান্য অ্যাপ, আইকন, ওয়ালপেপার ইত্যাদি দিয়ে আমাদের ফোনকে সুন্দর এবং ফাংশনাবল করার চেষ্টা করি। আমাদের ওয়েব সাইটের ক্ষেত্রেও ঠিক তেমনি আমরা থিম, মডিউল/অ্যাডঅন/প্লাগইন ইত্যাদি ব্যবহার করে ওয়েবসাইটটি সুন্দর ও আরও ফাংশনাবল করার চেষ্টা করি।

লেখাটা এমনি অনেক বড় হয়েছে। আরও অনেক কিছু উদাহরণ যোগ করা যায়। আশা করি অভিজ্ঞরা আমার ভুল হলে তা সংশোধন করে মতামত দিবেন।

No comments:

Powered by Blogger.