কাক ভেজা বৃষ্টি ও বৃষ্টি ভেজা কাক

অলসতা ঝেঁকে বসে আছে শরীরের রন্ধ্রে রন্ধ্রে। চুপচাপ থাকতেই বেশি পছন্দ করি। সাধারণত ঘর থেকে তেমন বের হই না। বন্ধু-বান্ধব আর পরিচিত’র পরিধিটা ক্ষুদ্র বৃত্তে আবদ্ধ। প্রিয় সহচর- আমার ল্যাপটপ আর বহির্বিশ্বে আন্তঃসংযোগকারি কানেকশন।

একা থাকি। একা আমি। একাই ভালো আছি। প্রকৃতির কাছে আমি বোর। মনটা বড় অবেলায় বুড়ো হয়ে গেছে। অনেকদিন প্রকৃতি দেখি না। আজ দুপুর থেকেই আকাশ কালো মেঘে ঘোমট হয়ে আছে। ভয়ঙ্কর মেঘ! কর্কশ মেঘ! বিকেল থেকে বৃষ্টি হচ্ছে। আর আমি চেয়ালে হেলিয়ে ল্যাপটপের টাচপ্যাডে আঙ্গুল চালানোয় ব্যস্ত। মজে আছি ওয়েবের দুনিয়ায়। অনেক দিন বৃষ্টিতে ভিজি না। ভেজা কদম, ভেসে যাওয়া হিজল দেখি না। আজ কেন যেন বৃষ্টিতে ভিজতে ইচ্ছে হলো। যদিও দুপুরে সাওয়ারে গোছল সেরে নিয়েছি। আমার সাধারণত এমন ইচ্ছে হয় না। মনটা বুড়িয়ে গেছে। আনমনে সদর দরজা খুলে পা চালালাম। সিঁড়ি বেয়ে উপরে চলে এলাম। সাধারণত ছাদে যাওয়ার দরজাটা তালা বদ্ধ থাকে। আজ খোলা। ভাবলাম আজ হয়তো প্রকৃতিই চায় তার অশ্রুতে আমাকে সিক্ত করতে। ছাদের উত্তর কর্নিশে দাঁড়ালাম। একটা মেয়ে। রাস্তার ওপাশের বিল্ডিংয়ের ছাদে। বৃষ্টিতে ভিজছে। আমার মতো নয়। চনমনে। নিখুঁদ বৃষ্টিভোগ। আমি দেখছি। দেখেই চলেছি। কল্পনায় আঁকছি। গ্রাম্য মেয়ে। আলতা পায়ে বৃষ্টিতে নেচে চলেছে। হাতে এক থোকা কদমের ছড়ি। প্রকৃতি ওর নাচে মুগ্ধ। আলতা মিশে যাচ্ছে বৃষ্টির জলে। ভাবছি। ভেবেই চলেছি।

আমি ওর নাম জানি না। জিজ্ঞেস করার ইচ্ছেও নেই। মনে মনে একটা নাম দিলাম। বৃষ্টি। বৃষ্টিতে ভিজছে বৃষ্টি। অনেকক্ষণ ধরে বৃষ্টি ঝরছে। কাকভেজা পরিবেশ। বৃষ্টিও কাকভেজা। কাকভেজা বৃষ্টি। কল্পনায় আঁকছি। এঁকেই চলেছি। কখন যে বৃষ্টি থেমে গেছে খেয়াল করি নি। ওপাশটা শূন্য। বৃষ্টি নেই। একা আমি দাঁড়িয়ে আছি। আমার চোখের সামনে কল্পনায় ছিলো বৃষ্টি। কাকভেজা বৃষ্টি। দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে ডানে তাকালাম। একটি কাক। বিদ্যুতের তারে বসে আছে। বৃষ্টিভেজা কাক। এখন আমি বৃষ্টিভেজা কাক দেখছি।

2 comments:

  1. Eto lekha pora jay? Audio hole valo hoto... Chokh bondho kore suntam..

    ReplyDelete
    Replies
    1. ধন্যবাদ আপনার মন্তব্যের জন্য। আপনাদের মতামত আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ; অনুপ্রেরণাময়। সত্যি ভালো লাগতো যদি এমন কোন ব্যবস্থা এখনই করতে পারতাম!

      Delete

Powered by Blogger.