ব্যক্তিগত ইমেইল হিসেবে কেন জিমেইল ব্যবহার করবেন এবং অ্যাকাউন্ট তৈরির প্রক্রিয়া

আপনি এই পোস্টটি পড়ছেন মানে হচ্ছে আপনি অনলাইনে কম-বেশি সক্রিয় এবং প্রয়োজনে বা অপ্রয়োজনে নানা রকম ওয়েবসাইটে (ফেসবুক, ইউটিউব, টুইটার, নানা রকম ব্লগ ইত্যাদি) ঘুরে বেড়ান। আপনি জানতে চাচ্ছেন বর্তমানে ইমেইল অ্যাকাউন্ট কেন প্রয়োজন, কিভাবে একটি ফ্রি ইমেইল অ্যাকাউন্ট খোলা যায় এবং ফ্রি ইমেইল সার্ভিস প্রোভাইডার হিসেবে কে ভালো হবে? আপনি যদি ইতিমধ্যে সবগুলো প্রশ্নের উত্তর জেনে থাকেন তাহলে এই পোস্টটি হয়তো আপনার তেমন কোন উপকারে আসবে না। আর যদি এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চান তাহলে আমার সাথেই থাকুন এবং পোস্টটির শেষ পর্যন্ত পড়তে থাকুন।

ইমেইল কী, প্রকারভেদ ও সার্ভিস প্রোভাইডার

ইলেকট্রনিক মেইলের সংক্ষিপ্তরূপ হচ্ছে ই-মেইল। এটি অনলাইনে তথ্য আদান-প্রদান করার একটি মাধ্যম। আগেকার দিনে আমরা ডাক বিভাগের মাধ্যমে যেমন এক স্থান থেকে আরেক স্থানে চিঠি বা তথ্য আদান-প্রদান করতাম। ঠিক তেমনি এখন চিঠি বা তথ্য প্রেরণের ডিজটাল মাধ্যম হচ্ছে ইমেইল। এর মাধ্যমে আপনি তাৎক্ষণিক বার্তা আপনার কাঙ্ক্ষিত ঠিকানায় (অবশ্যই অন্য কোন ইমেইল) পাঠাতে পারবেন। বর্তমানে প্রায় সকল ইমেইল সার্ভিস প্রোভাইডার বা প্লাটফর্ম ব্যবহার করে তথ্য বা বার্তার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ফাইলও (ছবি, অডিও, ভিডিও ইত্যাদি) পাঠানো যায়। আপনার বাড়ির যেমন একটি ঠিকানা থাকে যেখানে যে কেউ আপনাকে চিঠি পাঠাতে পারে। ইমেইল হচ্ছে অনলাইনে আপনার তেমন একটি ঠিকানা যেখানে অন্যরা আপনাকে ইলেকট্রনিক বার্তা পাঠাতে পারবেন।

ইমেইলের প্রকারভেদ জানার আগে আমরা জেনে নি ইমেইল সার্ভিস প্রোভাইডার কী? এক কথায় বলতে গেলে যারা ইমেইল সেবা প্রদান করে থাকে তারাই ইমেইল সার্ভিস প্রোভাইডার। যেমন: জিমেইল (গুগল), ইয়াহু মেইল (ইয়াহু), হটমেইল (মাইক্রোসফট) ইত্যাদি। অর্থাৎ যাদের কাছ থেকে ইমেইল সেবা নিচ্ছেন তারাই ইমেইল সার্ভিস প্রোভাইডার।

অ্যাকাউন্ট খুলতে পারার ক্ষমতায়নের দিক থেকে আমরা ইমেইল কে মোটামুটি ২ ভাগে ভাগ করতে পারি।
১. ফ্রি ইমেইল অ্যাকাউন্ট
২. কর্পোরেট ইমেইল অ্যাকাউন্ট

ফ্রি ইমেইল অ্যাকাউন্টে আপনি চাইলে তাদের (ইমেইল সার্ভিস প্রোভাইডার) শর্ত মেনে নিয়ে অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে পারবেন। যেমন: example@gmail.com বা example@yahoo.com ইত্যাদি। এক্ষেত্রে সকল সার্ভিস প্রোভাইডারদেরই নির্দিষ্ট কিছু শর্ত ও সীমাবদ্ধতা থাকে। তবে তা সাধারণ  ব্যবহারকারীদের জন্য কোন সমস্যার কারণ হয় না বললেই চলে।

আর কর্পোরেট ইমেইল হচ্ছে কোন নির্দিষ্ট কোম্পানী তার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য যে ইমেইল সেবা প্রদান করে। যেমন: example@grameenphone.com ইত্যাদি। আপনার যদি নিজের কোন ডোমেইন থাকে তবে আপনি চাইলে সেই ডোমেইনের অধীনে ইমেইল অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে পারবেন। যেমন:  example@bonikbari.com ইত্যাদি।

কেন ইমেইল অ্যাকাউন্ট প্রয়োজন

১. বর্তমানে স্কুল, কলেজ বা ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি সংক্রান্ত কার্যক্রমে ইমেইলের ব্যবহার বেড়েই চলেছে।
২. বর্তমানে চাকুরি প্রার্থীর একটি ইমেইল অ্যাড্রেস থাকা অত্যাবশ্যক।
৩. দ্রুত তথ্য আদান-প্রদানের জন্য ইমেইল অ্যাড্রেস আবশ্যক।
৪. প্রয়োজনীয় ওয়েবসাইটে (চাকুরি সংক্রান্ত, সোস্যাল মিডিয়া, ই-কমার্স সাইট) রেজিস্ট্রেশনের জন্য একটি ইমেইল অ্যাড্রেস আবশ্যক।

আসলে বর্তমানে ইমেইল অ্যাকাউন্টের প্রয়োজনীয়তা মোবাইল ফোনের প্রায় সমকক্ষ বলা চলে। ডিজিটাল জগতে চলতে গেলে একটি ইমেইল অ্যাকাউন্টের প্রয়োজনীয়তা আপনি প্রতি পদে পদে অনুভব করবেন।

ইমেইল সার্ভিস প্রোভাইডার নির্বাচন

বর্তমানে অনলাইনে জনপ্রিয় কিছু প্লাটফর্মের মধ্যে গুগল, ইয়াহু, মাইক্রোসফট অন্যতম। এরা সবাই ফ্রি ইমেইল সেবা দিয়ে থাকে। গুগলের রয়েছে জিমেইল, ইয়াহুর ইয়াহু মেইল, ওয়াই মেইল, মাইক্রোসফটের হটমেইল, লাইভ মেইল ইত্যাদি। আপনি চাইলে তাদের কাছ থেকে ফ্রি ইমেইল সেবা গ্রহণ করতে পারেন। আমি সাজেস্ট করবো জনপ্রিয় সকল প্লাটফর্মে একটি করে ইমেইল অ্যাকাউন্ট তৈরি করে রাখতে । কারণ এদের সবারই রয়েছে নিজস্ব কিছু সার্ভিস যা তাদের প্রোভাইড করা ইমেইল অ্যাড্রেস ছাড়া ব্যবহার করতে পারবেন না। যেমন: গুগলের প্রায় সকল সার্ভিস ব্যবহার করার জন্য অবশ্যই জিমেইল অ্যাকাউন্ট থাকতে হবে। ইয়াহু অ্যানসারের জন্য ইয়াহু অ্যাকাউন্ট। ওয়ান ড্রাইভের জন্য হটমেইল বা লাইভ মেইল অ্যাকাউন্ট। তবে আমি ব্যক্তিগতভাবে সাজেস্ট করবো আপনার ব্যক্তিগত ইমেইল অ্যাকাউন্ট হিসেবে জিমেইল ব্যবহার করতে। তবে আমি এ বলছি না যে ইয়াহু বা মাইক্রোসফটের সার্ভিস ভালো না। তাদের সার্ভিসও যথেষ্ট পরিমাণ ভালো। তবে জিমেইলের তাদের থেকে একটু বেশিই এগিয়ে।

কেন জিমেইল ব্যবহার করবেন

১. আমার দেখা মতে অন্যদের চেয়ে জিমেইল তাড়াতাড়ি লোড হয়।
২. এর ব্যাকগ্রাউন্ডসহ অন্যান্য লেআউট বেশ ইউজারফ্রেন্ডলি ও পরিপাটি। যা ব্যবহারকারীর চোখে আঘাত হানে না ও বিরক্তির উদ্রেগ ঘটায় না।
৩. জিমেইলের স্প্যাম মেইল ফিল্টারিং সিস্টেম অন্যদের থেকে বেশি কার্যকারী। যা আপনার ইনবক্সকে রাখবে স্প্যাম মেইল মুক্ত রাখতে বেশি কার্যকর।
৪. টু স্টেপ ভেরিফিকেশন আপনার ইমেইল অ্যাকাউন্টের বাড়তি নিরাপত্তা জোরদার করবে।
৫. অন্যান্য সার্ভিস প্রোভাইডারের চেয়ে গুগলের সেবার পরিধি অনেক বড়। আর গুগলের সকল সেবা আপনি একটি মাত্র জিমেইল অ্যাকাউন্ট থেকেই ব্যবহার করতে পারবেন কোনরূপ সাইন-আপ ছাড়াই।

জিমেইল অ্যাকাউন্ট খোলার প্রক্রিয়া

১. প্রথমে আপনার ব্রাউজারে https://accounts.google.com/SignUp লিংকে প্রবেশ করুন অথবা এই লিংকে ক্লিক করুন।
২. এবার আপনার ব্রাউজারে নিচের ছবির মতো বা এরকম একটি ফর্ম পূরণের পেজ লোড হবে। আমি ছবির ঘরগুলো ১,২,...,৯ পর্যন্ত মার্ক করে দিয়েছি এবং নিচে প্রত্যেকটি ঘর সম্পর্কে বলবো।
(১) Name: নামের ঘরে দুইটি অংশ রয়েছে First এবং Last. আপনার নাম যদি হয় Md. Abdur Rahman তাহলে Rahman বাদে বাকি অংশ নামের প্রথমাংশ হিসেবে First ঘরে লিখুন এবং Rahman নামের শেষাংশ হিসেবে Last ধরে লিখুন।
(২) Choose your username: আপনার পছন্দমতো একটি ইউজারনেম ঠিক করুন। যদি আপনার নির্বাচিত ইউজারনেমটি খালি না থাকে তাহলে পরিবর্তন করে আবার চেষ্ট করুন। এই ইউজারনেমের সাথে @gmail.com যুক্ত হয়ে আপনার ইমেইল অ্যাড্রেস তৈরি হবে। অর্থাৎ আপনার ইউজারনেম যদি abc123 হয় তাহলে আপনার ইমেইল (জিমেইল) অ্যাড্রেস হবে abc123@gmail.com.
(৩) Create a password: আপনার জিমেইল (গুগল) অ্যাকাউন্ট পরিচালনার জন্য একটি পাসওয়ার্ড দিন। পাসওয়ার্ড নির্বাচনের ক্ষেত্রে অবশ্যই সতর্কতা অবলম্বন করবেন।
ইন্টারনেট সিকিউরিটি কী? বেসিক আলোচনা ও জোরদারের উপায়।
(৪) Confirm your password: আপনি যে পাসওয়ার্ডটি উপরের ঘরে দিয়েছেন সেই পাসওয়ার্ডটি পুনরায় দিন। এর মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে আপনি যে পাসওয়ার্ড দিয়েছেন তা আপনি ঠিকভাবে দিয়েছেন কিনা তা যাচাই করা।
(৫) Birthday: ড্রপডাউন মেনু থেকে আপনার জন্মমাস নির্বাচন করুন।  পরের দুই ঘরে যথাক্রমে আপনার জন্মদিন ও জন্মসাল লিখুন।
(৬) Gander: ড্রপডাউন মেনু থেকে আপনার লিঙ্গ নির্বাচন করুন।
(৭) Mobile phone: আপনার একটি মোবাইল নাম্বার দিন। যদি আপনার কান্ট্রিকোড নির্বাচন করা না থাকে তাহলে ড্রপডাউন মেনু ব্যবহার করে নির্বাচন করে দিন।
(৮) Your current email address: এই ঘরে যদি আপনার ইতিমধ্যে কোন ইমেইল অ্যাড্রেস থেকে থাকে তাহলে তা লিখুন। অথবা আপনার পরিচিত কারো ইমেইল অ্যাড্রেস দিন। এই ঘরটি যদি পূরণ করতে চান তাহলে অবশ্যই নিজের অথবা বিশ্বস্ত কারো ইমেইল ব্যবহার করবেন। কারণ, এটি পরবর্তীতে অ্যাকাউন্ট রিকভারি করতে সাহায্য করবে। অন্যথায় এই ঘরটি খালি রাখবেন। ভুলেও ভুলভাল কোন ইমেইল অ্যাড্রেস লিখবেন না।
(৯) Location: এখানে ডিফল্টভাবে আপনার দেশ নির্বাচন করা থাকবে। না থাকলে ড্রপডাউন মেনু ব্যবহার করে নির্বাচন করে দিন।

সবকিছু ঠিকঠাকভাবে পূরণ করা হলে Next step বাটনে ক্লিক করুন। তাহলেই আপনার অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করতে পারবেন। সবশেষে বলবো অনলাইনে নিজের ইমেইল অ্যাকাউন্ট সতর্কতার সাথে ব্যবহার করুন। অনাকাঙ্ক্ষি পরিস্থিতি থেকে বাঁচুন।

No comments:

Powered by Blogger.