ডোমেইন নাম নির্বাচন ও কেনার পূর্বে বিবেচ্য বিষয় - পূর্ণাঙ্গ গাইডলাইন

পূর্বে আমরা ডোমেইন এবং হোস্টিং কী তা নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা করেছি। যদি আপনি এ সম্পর্কে এখনও না জেনে থাকেন অথবা ডোমেইন হোস্টিং বিষয়টি সুস্পষ্ট না হয়ে থাকে তাহলে “ডোমেইন এবং হোস্টিং কী? বাস্তব জীবনের সাথে তুলনা করে প্রাথামিক আলোচনা” পোস্টটি থেকে ধারণা নিতে পারেন।

প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তিগত কারণে আমরা ওয়েব সাইট তৈরি করতে ডোমেইন ব্যবহার করে থাকি। অনেকে না জেনে বা সঠিক গাইড লাইনের অভাবে হুটহাট কোন ডোমেইন কিনে পরবর্তীতে সময় ও অর্থ অপচয়সহ আরও বড় ধরনের বিপদের সম্মুখিন হতে পারেন। এই পোস্টে আমি চেষ্টা করবো একটি ডোমেইন কেনার পূর্বে নাম নির্বাচন করা থেকে শুরু করে আনুষঙ্গিক বিষয়াদি আলোচনা করার।

আমরা আলোচনায় যাওয়ার পূর্বে একটি ডেমো ডোমেইনের উদাহরণসহ এর বিভিন্ন অংশগুলো সম্পর্কে জেনে নিবো। যা আমাদের পরবর্তী আলোচনা বুঝতে সাহায্য করবে। যখন আমরা ব্রাউজারে একটি ওয়েবসাইট ভিজিট করি তখন অ্যাড্রেসবারে সাধারণত example.com অথবা www.example.com এরকম দেখতে পাই। এখানে example.com হচ্ছে ন্যাকেট (Nacked) ডোমেইন এবং www.example.com হচ্ছে Fully Qualified Domain Name (FQDN). www হচ্ছে সাবডোমেইন (Subdomain)। example হচ্ছে মূল (Root) ডোমেইন। .com হচ্ছে ডোমেইন এক্সটেনশন।

এখানে .com হচ্ছে টপ লেবেল ডোমেইন (TLD) এবং এর পরে যদি অন্যকিছু থাকতো যেমন .bd তাহলে .com.bd হতো কান্ট্রিকোড টপ লেবেল ডোমেইন (ccTLD)


নাম নির্বাচন

প্রয়োজনের ওপর ভিত্তি করে ডোমেইনকে দুই ভাগে বিভক্ত করা যায়।
১. অথোর বা ব্র্যান্ড ডোমেইন
২. নিশ বা নির্দিষ্ট বিষয়ের জন্য ডোমেইন

অথোর বা ব্র্যান্ড ডোমেইনগুলো প্রধাণত কোন নামকে প্রতিষ্ঠিত বা পরিচিত করতে ব্যবহৃত হয়। যেমন ধরুন, facebook.com বা google.com. এমনকি আমার bloggerzia.com ডোমেইনও এর অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া আরও উদাহরণ হিসেবে আমাদের দেশের বিভিন্ন কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠানের ডোমেইনের কথা উল্লেখ করা যায়। এই ডোমেইন হতে পারে TLD (Top Level Domain) বা ccTLD (Country Code Top Level Domain).

অন্যদিকে কোন এক বা একাধিক সমগোত্রীয় বিষয় নিয়ে কাজ করার জন্য যে ডোমেইন নাম ব্যবহার করা হয় তা মূলত নিশ ডোমেইন। এধরনের ডোমেইন নিয়ে সাধারণত ব্লগিং করা হয় যা নিশ ব্লগ নামে পরিচিত। যেমন SEO (Search Engine Optimization) বিষয় নিয়ে কাজ করার জন্য ডোমেইন নাম হতে পারে seotips.com বা seotipstricks.com.

এবার আমাদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পালা আমাদের ডোমেইনটি অথোর বা ব্র্যান্ড ডোমেইন হবে নাকি কোন নিশ ডোমেইন হবে। সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরে নিচের পয়েন্টগুলো মাথায় রেখে এগিয়ে যাবো।

০১. কোনটা আগে ডোমেইন নাম নাকি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নাম?
একটা বহুল প্রচলিত প্যারাডক্স আছে “ডিম আগে নাকি মুরগি আগে?” উপরের প্রশ্নটি কিছুটা এমন হয়ে গেল মনে হয়। তবে আপনি যদি ঠিক করে থাকেন আগে প্রতিষ্ঠানের নাম রেখে প্রাতিষ্ঠানিক কাজ শুরু করবেন। পরে সময় সুযোগ করে একটা ডোমেইন কিনবেন। তাহলে আমি বলবো আপনি ভুল ট্র্যাকে রয়েছেন। ধরুন আপনার প্রতিষ্ঠানের নাম রাখলেন Zia Store. আপনি এই নামে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তৈরি করে ব্যবসা শুরু করলেন। পরবর্তীতে মনে হলো এখন একটি ওয়েবসাইট খুলবেন নিজের প্রতিষ্ঠানের পরিচিতির জন্য বা নতুন একটা সেলস ফানেল তৈরি করার জন্য। কিন্তু ডোমেইন কিনতে গিয়ে দেখলেন ziastore.com সহ জনপ্রিয় অন্যান্য এক্সটেনশন (.net, .org, .info ইত্যাদি) খালি নেই। এমনকি এর সাথে মানানসই কিছু prefix বা ‍suffix ব্যবহার করেও মনমতো কোন নাম পেলেন না। তখন কিন্তু আফসোস করতে হতে পারে।

নিশ ডোমেইন নির্বাচনেও নাম একটা বড় ফ্যাক্ট হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাই অন্যান্য কাজ (সোস্যাল মিডিয়া প্রোফাইল রেডি, লিড জেনারেশন) করার পূর্বে দেখে নিন মনমতো নাম খালি আছে কিনা।


০২. নামের দৈর্ঘ্য ও ব্র্যান্ড ভ্যালু
একটা ডোমেইন নাম সর্বোচ্চ ৬৭ অক্ষরের হতে পারে। তবে একটা আদর্শ ডোমেইন নাম ১৪ অক্ষরের বেশি হওয়া উচিত নয়। আর আপনি যদি বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে কোন নামকে ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত বা পরিচিত করতে চান সেক্ষেত্রে অবশ্যই ডোমেইনের নাম ১১ অক্ষরের মধ্যে রাখা উচিত। কারণ ভবিষ্যতে হয়তো আপনার প্রমোশনাল বা ট্রানজেকশনাল ম্যাসেজ পাঠানোর দরকার হতে পারে। যেহেতু বাংলাদেশের মোবাইল নাম্বার ১১ সংখ্যার তাই আপনার ব্র্যান্ড নাম স্পেসসহ ১১ অক্ষরের বেশি হলে ঠিকভাবে লিখতে পারবেন না।

অন্যদিকে আপনার ডোমেইনের নাম যদি অনেক বড় হয় সেক্ষেত্রে তা মনে রাখাও কষ্টকর, আবার সহজে কেউ টাইপ করে ব্রাউজ করতে চাইবে না। কিন্তু আপনার প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানির নাম যদি বড় হয় সেক্ষেত্রে আপনি নাম সংক্ষেপণ করতে পারেন। যেমন: গুগল তাদের মেইলিং সার্ভিসকে সংক্ষেপে Gmail (Google MAiL - Grupa Mlodych Artystow i Literatow) রেখেছে।


০৩. উচ্চারণ, শব্দ চয়ন ও স্পেশাল ক্যারেক্টার
যদি আপনার চিন্তা-ভাবনা থাকে আপনার প্রতিষ্ঠানের বা ডোমেইন নামটি গ্লোবাল করার সেক্ষেত্রে এমন কোন নাম নির্বাচন করা উচিত যেন তা বিশ্বের সকল ভাষাভাষী মানুষ সহজে উচ্চারণ করতে পারে ও সহজে ইংরেজিতে লেখা যায়। যেমন: Rolex. অথবা নামটি যেন সকলের কাছে পরিচিত হয়। যেমন: Alibaba, Amazon. আর যদি আপনি এমন কোন নাম না পেয়ে থাকেন অথবা আপনার প্রতিষ্ঠান শুধু নির্দিষ্ট এলাকার জন্য হয় সেক্ষেত্রে চেষ্টা করুন লোকালি জনশ্রুত এমন কোন নাম রাখার। এবং তা যেন ইংরেজিতে লিখতে কোন কনফিউশন তৈরি না করে। ধরুন আপনি নাম রাখলেন পদ্ম যা ইংরেজিতে কয়েকভাবে লেখা যেতে পারে। যেমন: Padma, Padda, Paddo, Poddo. এক্ষেত্রে যারা আপনার ডোমেইন নাম মনে রেখে ব্রাউজ করার চেষ্টা করবে তাদের অনেকেই ভুল বানান লিখবেন। যদি আপনি লেখা যায় এমন বানানের সবগুলো ডোমেইন কিনে না রাখেন সেক্ষেত্রে আপনার ডাইরেক্ট ভিজিটরের একটা অংশ হারাবেন। আর যারা সরাসরি ব্রাউজরে টাইপ করে সাইটে আসে পরবর্তীতে তাদের নিয়মিত কাস্টমার হওয়ার চান্স সবচেয়ে বেশি।

যখন কোন ডোমেইন নাম পছন্দ করবেন চেষ্টা করবেন তা যেন কোনক্রমেই তিন শব্দের বেশি না নয়। যেমন: বিডিনিউজ২৪ (বিডি নিউজ ২৪ - তিনটি শব্দ)। তবে আদর্শ ডোমেইন সর্বোচ্চ ২ শব্দের মধ্যে রাখা উচিত। যেমন: ফেসবুক (ফেস বুক - দুইটি শব্দ)। তবে সবচেয়ে ভালো হয় এক শব্দের মধ্যে নির্বাচন করতে পারলে। যেমন: অ্যাপল।

ডোমেইনের নামে সংখ্যা (0,1,2....,9) ও স্পেশাল ক্যারেক্টার ব্যবহার করা উচিত নয়। ডোমেইনে স্পেশাল ক্যারেক্টার হিসেবে শুধুমাত্র হাইফেন (-) ব্যবহার করা যায়। তবে যদি একান্তই প্রয়োজন হয় সেক্ষেত্রে ব্যবহার করতে পারেন। যেমন: বিডিনিউজ suffix হিসেবে ২৪ ব্যবহার করেছে। প্রথম-আলো তাদের দুই শব্দের মাঝে হাইফেন (-) ব্যবহার করেছে। তবে এটুকু বলতে পারি শুধু আলফাবেটিক লেটার (a,b,c,.....,z) ব্যবহার না করলে ডাইরেক্ট ভিজিটর কিছু হলেও হারাতে হবে। যেমন আমি তাৎক্ষণিক নিউজ সাইট ভিজিট করতে হলে প্রথম-আলোর পরিবর্তে যুগান্তরে প্রবেশ করি শুধুমাত্র একটা হাইফেনের জন্য।


কপিরাইট/ট্রেডমার্ক

ডোমেইন ক্রয়ের ক্ষেত্রে কপিরাইট/ট্রেডমার্ক অনেক বড় একটা ইস্যু। অনেকে এই বিষয়ে জানেনই না। আবার অনেকে রয়েছেন কনফিউশনে। যারা কোন নামকে ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাচ্ছেন তারা ডোমেইন ক্রয়ের পূর্বে অবশ্যই এই বিষয়ে ভালোভাবে খোঁজ-খবর নিয়ে ডোমেইন নিবন্ধন করবেন।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে কপিরাইট/ট্রেডমার্ক করা থাকলেই কী আপনি আর সেই ডোমেইন ব্যবহার করতে পারবেন না? মূলত কপিরাইট/ট্রেডমার্কের ক্ষেত্রে ডোমেইন কোন সমস্যা না। মূল সমস্যা হচ্ছে নাম। আপনি একই নাম ব্যবহার করতে পারবেন না। মূলত কোন নামিদামী প্রতিষ্ঠান (গুগল, ফেসবুক ইত্যাদি) তাদের নাম, স্লোগান, লোগোসহ তাদের অন্যান্য সেবার নামগুলো কপিরাইট/ট্রেডমার্ক করে রাখেন।

এবার নিশ্চয় মনে প্রশ্ন জাগতে পারে এতো দেশে এতো এতো প্রতিষ্ঠান, প্রত্যেক দেশেই কপিরাইট/ট্রেডমার্ক আইন, তাহলে আমার নামটি সমস্যা করবে কিনা তা বুঝবো কী করে? আপনি যদি বাংলাদেশের আইন দ্বারা ব্যবসা পরিচালনা করেন সেক্ষেত্রে আপনাকে বাংলাদেশের আইন অনুসরণ করতে হবে। আপনি যদি লোকাল ব্র্যান্ড প্রতিষ্ঠা করতে চান সেক্ষেত্রে আপনার নামটি ওই দেশের কপিরাইট/ট্রেডমার্ক দ্বারা সংরক্ষিত কিনা তা জানতে হবে।

কিন্তু কোন নাম যদি US International Copyright Law দ্বারা সংরক্ষিত থাকে তাহলে আপনি ওই নাম ব্যবহার করতে পারবেন না। যেমন: ফেসবুক, গুগল সহ বিশ্বের নামকরা প্রতিষ্ঠান তাদের নাম, স্লোগান, লোগোসহ যাবতীয় সেবার নাম ইত্যাদি এই আইন দ্বারা সংরক্ষিত করে রাখে। কোন কোন নাম এই আইন দ্বারা সংরক্ষিত তা জানতে পারবেন নিচের ওয়েব সাইট থেকে।
ICANN (The Internet Corporation for Assigned Names and Numbers) হচ্ছে আইপি ও ডোমেইন নিয়ন্ত্রক সংস্থা। এরা টপলেবেল ও কান্ট্রি কোড ডোমেইন নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। এদের Uniform Domain Name Dispute Resolution Policy সম্পর্কে আপনার অবগত থাকা উচিত।

এখনও যাদের মনে ভয় বা সংশয় তারা তাদের উদ্দেশ্যে লিখছি। যখন কোন নতুন TLD বা ccTLD ডোমেইন এক্সটেনশন হিসেবে চালু হয় তখন তা মূলত তিন ধাপে রেজিস্ট্রেশনের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। প্রথম ধাপে, ওই দেশের সরকারি প্রতিষ্ঠান ও আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলো ডোমেইন নিবন্ধনের সুযোগ পায়। এই ধাপ শেষ হলে ওই দেশের লোকাল ব্র্যান্ডসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান (স্কুল, কলেজ, ইউনিভার্সিটি, কোম্পানি) ডোমেইন নিবন্ধনের সুযোগ পায়। পরবর্তী ধাপে সকলের জন্য নিবন্ধন উন্মুক্ত করা হয়। তাই আপনি যদি কোন নাম নিবন্ধনের সুযোগ পান তাহলে ICANN এর নিয়ম অনুযায়ী অন্যকেউ তার মালিকানা দাবী করতে পারবেন না।


কোম্পনির নাম ও সেবা

আপনার ব্যবসা যদি লোকাল হয় এবং আপনার প্রতিষ্ঠান বা ব্র্যান্ডের নাম ও সেবা যদি ওই দেশের কপিরাইট ও ট্রেডমার্ক এবং US International Copyright Law দ্বারা সংরক্ষিত কোন প্রতিষ্ঠানের নাম ও সেবার কাছাকাছি হয় তাহলে উক্ত প্রতিষ্ঠান আপনার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবেন। তাই নাম নির্বাচনের পূর্বে এ বিষয়ে সতর্ক হোন। যেমন আজকেরডিল বাংলাদেশে একটি ই-কমার্স মার্কেটপ্লেস। এখন আপনি যদি আপনার প্রতিষ্ঠানের নাম রাখেন আইজকেরডিল এবং আপনারও ব্যবসার মূল হয় ই-কমার্স। সেক্ষেত্রে আজকেরডিল আপনার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে পারবে।


এক্সটেনশন নির্বাচন

অনেকেই দ্বিধাগ্রস্থ থাকেন যে ডোমেইন এক্সটেনশন হিসেবে কোনটি নির্বাচন করবেন। ডট কম নাকি অন্য কিছু। একটা সময় ছিলো যখন .com .net .org .info সহ হাতেগোনা কয়েকটি এক্সটেনশন ছিলো। কিন্তু ভালো ও চাহিদাসম্পন্ন নাম খালি না থাকায় নতুন নতুন অনেক এক্সটেনশন চালু হয়েছে। ২০১৭ সালের প্রথম কোয়ার্টারের হিসেব অনুযায়ী মোট নিবন্ধিত ডোমেইনের সংখ্যা ৩৩০.৬ মিলিয়ন প্রায়। যার মধ্যে শুধু .com এর নিবন্ধিত ডোমেইন সংখ্যা ১৩৩.৬ মিলিয়ন প্রায়। প্রায় ১০ মিলিয়ন নিবন্ধিত ডোমেইন নিয়ে .net ছিলো দ্বিতীয় অবস্থানে। এ থেকেই বোঝা যায় ডোমেইন এক্সটেনশন হিসেবে ডট কম কতোটা জনপ্রিয়। তাই ডট কমে আপনার কাঙ্ক্ষিত নামটি খালি থাকা অসম্ভব প্রায়।

যদি আপনি নামটি ডট কমে খালি পান তাহলে নির্দ্বিধায় ব্যবহার করুন। আর না হলে আপনার কাজের ধরন অনুযায়ী অন্য কোন এক্সটেনশন ব্যবহার করতে পারেন। যেমন: অনলাইন স্টোরের জন্য .store. বর্তমানে .xyz এক্সটেনশনটি দ্রুত জনপ্রিয়তা লাভ করছে। এছাড়া আপনার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বা ব্র্যান্ডটি যদি লোকাল হয় তাহলে আপনি কান্ট্রিকোড এক্সটেনশন ব্যবহার করতে পারেন। যেমন: .com.bd

আপনার মনে সংশয় থাকতে পারে .com ছাড়া অন্য TLD ব্যবহার করলে গ্লোবাল ট্র্যাফিকের ক্ষেত্রে কোন সমস্যা হবে কিনা? সার্চ র‌্যাংকিং ডোমেইন এক্সটেনশনের ওপর নির্ভর করে না। এটি নির্ভর করে অন্যান্য এস.ই.ও. মেট্রিক্সের ওপর।


ডোমেইনের বয়স

সাধারণত কেউ যদি একটি ডোমেইন কিনে কিছুদিন ব্যববহার করে এবং পরবর্তীতে ডোমেইনটি রিনিউ না করে তাহলে একটা নির্দিষ্ট সময় পরে ওই ডোমেইনটি পুনরায় কেনার জন্য উন্মুক্ত হয়ে যায়। তাই আপনি যদি আপনার কাঙ্ক্ষিত নামটি নিবন্ধনের জন্য পেয়েও যান তাহলে অন্তত রেজিস্ট্রেশনের পূর্বে একবার হলেও নেটে খুঁজে দেখুন ডোমেইন সম্পর্কে কোন তথ্য পান কিনা। এর জন্য কার্যকর দু’টি মাধ্যম হচ্ছে

১. archieve.org সাইটে ডোমেইনটি লিখে সার্চ করা। এটি একটি আর্কাইভ সাইট যেখানে প্রায় সকল নিবন্ধিত ডোমেইনের তথ্য জমা থাকে।
২. site:"example.com" লিখে গুগলে সার্চ করা। যদি পূর্বে ডোমেইনটি ব্যবহৃত হয় তাহলে গুগল তার সার্ভারে এখনও কোন তথ্য জমা রাখলেও রাখতে পারে। এখানে example.com এর পরিবর্তে আপনার কাঙ্ক্ষিত ডোমেইন নামটি লিখবেন।


পুরনো, নতুন নাকি প্রিমিয়াম ডোমেইন

যদি আপনার কাঙ্ক্ষিত নাম রেগুলার প্রাইসে পেয়ে যান সেক্ষেত্রে তো অন্যকোন বিষয় দেখার আর প্রয়োজন নেই। আর যদি নামটি প্রিমিয়াম হিসেবে লিস্টেড থাকেে এবং আপনার বাজেট আর সাধ্যের মধ্যে হয় তাহলে কিনতে পারেন। প্রিমিয়াম ডোমেইন প্রথম বছরের জন্য প্রিমিয়াম প্রাইস এবং পরবর্তী বছর থেকে রেগুলার প্রাইস হিসেবে চার্জ করে। প্রিমিয়াম ডোমেইন দুই প্রকার হতে পারে।

১. কেউ আগে রেজিস্ট্রেশন করে নতুন মূল্য নির্ধারণ করে ডোমেইন পার্ক করে রেখেছেন বা কোন অকশন সাইটে বিক্রির উদ্দেশ্যে রেখেছেন।

২. ওই এক্সটেনশনের মালিকানা যে দেশ বা প্রতিষ্ঠানের হাতে তারা মূল্য নির্ধারণ করে দিয়েছেন। যেমন: .com.bd এর মালিকানা বাংলাদেশ সরকারের অর্থাৎ বিটিসিএল-এর হাতে। এখন বিটিসিএল চাইলে ভালো কিছু নাম যেমন: insurance.com.bd প্রিমিয়াম হিসেবে একটা মূল্য নির্ধারণ করে দিতে পারেন। অনেকে মনে করেন রেজিস্ট্রারগণ এরূপ মূল্য নির্ধারণ করেন। আসলে এটা ঠিক নয়।

আমার মতে, নাম যদি প্রিমিয়াম হয় এবং মূল্য যদি সামার্থ্যের মধ্যে থাকে তাহলে প্রিমিয়াম নাম ব্যবহার করা উচিত। কারণ, ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডে নাম অনেক বড় একটা ফ্যাক্টর। যেমন বলা যায়, insurance24.com এর চেয়ে insurance.com অনেক বেশি প্রোফেশনাল ও অনেক বেশি বিশ্বস্ত।

ডোমেইনের বয়স অ্যাডসেন্স, সার্চ র‌্যাংকিং ইত্যাদি ক্ষেত্রে একটু বেশি সুবিধা দেয় এটা ঠিক। আবার কিছু কিছু ক্ষেত্রে বিশ্বস্ততা বাড়ানোসহ আরও বেশ কিছু সুবিধা দিয়ে থাকে। তবে পুরনো ডোমেইন কেনার পূর্বে বাড়তি কিছু সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। এবার দেখি পুরনো ডোমেইন কেনার পূর্বে আমাদের কোন কোন বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।


০১. কোন কপিরাইট ক্লেইম আছে কিনা
পুরনো ডোমেইন কেনার পূর্বে এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। আপনার অবশ্যই চেক করা উচিত যে ডোমেইনটি কিনছেন তার কোন কনটেন্টে কপিরাইট ক্লেইম আছে কিনা। যদি থাকে তবে ডোমেইন না কেনাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ। কপিরাইট ক্লেইম চেক করার জন্য নিচের টুলটি ব্যবহার করতে পারেন।

০২. ডোমেইন ব্লাক লিস্টেড
আপনি যে ডোমেইনটি কিনছেন তা দিয়ে যদি পূর্বে স্প্যামিং করা হয় তাহলে ডোমেইনটি বিভিন্ন সার্চ ইঞ্জিন ও ইমেইল সার্ভিস প্রোভাইডার ব্লাকলিস্টেড করে রাখতে পারে। এধরনের ডোমেইন অবশ্যই আপনার ব্র্যান্ড বা নিশের জন্য ক্ষতিকর। কিছু টুল ব্যবহার করে একটা আইডিয়া নিতে পারেন। এছাড়াও গুগলে সার্চ করলে আরও কার্যকরী অনেক মাধ্যম পেতে পারেন।

০৩. এসইও ফ্যাক্টর
পুরনো ডোমেইনে অনেক ৪০৪ ইরোর থাকতে পারে যা এসইও র‌্যাংকিয়ে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। গুগলে site:"example.com" লিখে সার্চ করে দেখতে পারেন ডোমেইনের কি পরিমাণ লিংক রয়েছে। এখানে example.com এর পরিবর্তে আপনার কাঙ্ক্ষিত ডোমেইন নামটি লিখবেন।


রেজিস্ট্রার নাকি রিসেলার

এতক্ষণ উপরের আলোচনা ছিলো শুধুমাত্র একটি ডোমেইন নাম নির্বাচন সংক্রান্ত। এখন নাম নির্বাচনের পরে যে বিষয়টি আসে তা হলো কার কাছ থেকে ডোমেইনটি কিনবেন। ICANN সরাসরি যে সকল প্রতিষ্ঠানকে ডোমেইন বিক্রি করার অনুমতি দান করে তাদের বলা হয় Registrar. এরা সরাসরি ডোমেইন বিক্রি করে আবার অন্য কোন থার্ডপার্টি প্রতিষ্ঠানকেও ডোমেইন বিক্রি করার জন্য অনুমতি/নিয়োগ দেয়। এসকল প্রতিষ্ঠানকে বলা হয় Reseller. এই রিসেলারগণ আবার অন্যকোন প্রতিষ্ঠানকে ডোমেইন বিক্রি করার অনুমতি দিতে পারে। এরা হলেন রিসেলারদের রিসেলার। এভাবে আরও হতে পারে রিসেলারদের রিসেলারদের রিসেলার। বাংলাদেশে এখনও সরাসরি কোন রেজিস্ট্রার নেই। যারা ডোমেইন বিক্রি করেন তাদের মধ্যে হাতেগোনা কয়েকজন থাকতে পারেন যারা সরাসরি রিসেলার। অধিকাংশই রিসেলারদের রিসেলার কিংবা রিসেলারদের রিসেলারদের রিসেলার।

আপনার যদি ডুয়েল কারেন্সি সাপোর্টেড কোন ভিসা বা মাস্টারকার্ড থাকে তাহলে আপনি সরাসরি Registrar থেকে ডোমেইন কিনতে পারবেন। যেমন: পেওনিয়ার কার্ড দ্বারা আপনি এদের সরাসরি পেমেন্ট করে ডোমেইন কিনতে পারবেন। সরাসরি এদের কাছ থেকে ডোমেইন কিনলে প্রতারিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না বললেই চলে। আর যদি পেমেন্ট সংক্রান্ত সমস্যা থাকে তাহলে বাংলাদেশী কোন বিশ্বস্ত রিসেলারের কাছ থেকে কিনতে পারেন।


রিকমেন্ডড পোস্ট: বোনাস ২৫ ডলার সহ পেওনিয়ার মাস্টারকার্ড পাওয়ার সম্পূর্ণ টিউটোরিয়াল


ICANN দ্বারা অনুমতিত সকল Registrar-দের তালিকা দেখতে নিচের লিংকে ভিসিট করুন।

সরাসরি ভালো কোন রেজিস্ট্রার থেকে ডোমেইন কিনলে সবচেয় বড় সুবিধা হলো নিজে প্রতারিত হওয়ার বা ওই প্রতিষ্ঠান দেউলিয়া হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না বললেই চলে। আর বড় অসুবিধা হলো যদি ডোমেইন সংক্রান্ত কোন সমস্যা হয় (সাধারণত হয় না বললেই চলে) তাহলে এদের সাথে যোগাযোগ করে তা ঠিক করা সামান্য সময় সাপেক্ষ। কখনও কখনও ৪৮ ঘণ্টা বা তার চেয়ে বেশি সময়ও লাগতে পারে (সাধারণত খুব দ্রুতই সমাধান পাওয়া যায়)।

অন্যদিকে দেশি কোন ভালো ও বিশ্বস্ত রিসেলারের কাছ থেকে কিনলে বড় সুবিধা হলো ডোমেইন সংক্রান্ত কোন সমস্যা হলে একটা ফোনকল করেই সহজে সমাধান পাওয়া যায়। প্রয়োজনে সরাসরি এদের অফিসে যোগাযোগ করা যায়। আর অসুবিধার মধ্যে বিশ্বস্ত রিসেলার কিনা কিংবা প্রতিষ্ঠান দেউলিয়া হবে কিনা সেটা আগে থেকে আন্দাজ করা যায় না। যদি ফ্রড কোন রিসেলারের হাতে পড়েন সেক্ষেত্রে আপনার সাধের ডোমেইনটি হাতছাড়া হতে পারে। কিংবা পরবর্তীতে অনেক টাকা দাবি করতে পারে।


রেজিস্ট্রার/রিসেলার নির্বাচন

আমাদের যদি অনলাইনে পেমেন্ট করার কোন মাধ্যম (পেওনিয়ার বা ডুয়েল কারেন্সি কার্ড, পেপ্যাল ইত্যাদি) থাকে এবং আমরা সরাসরি কোন রেজিস্ট্রারের কাছ থেকে ডোমেইন কিনতে চাই সেক্ষেত্রে আমরা কয়েকটি মানদণ্ড বিচার করে নির্বাচন করবো আমাদের (আপনার) জন্য কোন রেজিস্ট্রারটি ভালো হবে।


০১. খরচ
প্রথমেই আমরা দেখবো এরা শুধু ডোমেইনের জন্য প্রথম বছর কতো নিচ্ছেন এবং পরবর্তী বছর থেকে কতো নিচ্ছেন। অধিকাংশ রেজিস্ট্রারগণ নতুন গ্রাহকদের জন্য শুধুমাত্র প্রথম ডোমেইনের ক্ষেত্রে প্রথম বছরের জন্য স্বল্পমূল্যে নিবন্ধন দিয়ে থাকেন। এবং পরবর্তী বছর থেকে তাদের রেগুলার চার্জ ধার্য করেন। তাই শুধু প্রথম বছরের সাথে সাথে রিনিউয়াল ফিও জানতে হবে।


০২. আনুষঙ্গিক সেবা ও সুবিধা
একটা ডোমেইনের সাথে Privacy Protection, Email Forwarding সহ আরও কিছু সেবা দরকার হতে পারে। যেমন: একটা ডোমেইন কেনার সময় বা পরে Registran, Administrative, Technical, Billing এর জন্য কনটাক্ট ইনফরমেশন দিতে হয়। যা Whois রেকর্ডে পাবলিকলি থাকে। তাই যে কেউ সহজে Whois রেকর্ড থেকে আপনার তথ্য নিয়ে স্প্যামিং মেইল, এসএমএস বা কল করতে পারে। Privacy Protection সেবা দ্বারা আপনি আপনার এসকল তথ্য Whois রেকর্ডে পাবলিকলি লুকিয়ে রাখতে পারবেন।

Email Forwarding দ্বারা আপনি আপনার ডোমেইনের অধীনে ইমেইল অ্যাকাউন্ট তৈরি করে তা জিমেইল বা অন্যকোন ইমেইল অ্যাকাউন্টে ফরওয়ার্ড করতে পারবেন। যেমন: আপনার ডোমেইন যদি হয় example.com এবং আপনি একটি ইমেইল mail@example.com তৈরি করে করে তা example@gmail.com এ ফরওয়ার্ড করেন তাহলে কেউ যদি mail@example.com এ কোন ইমেইল পাঠায় তা সরাসরি example@gmail.com এ চলে যাবে।

তাই আমাদের অন্তত জানতে হবে Privacy Protection ও Email Forwarding সেবা দু’টি রয়েছে কিনা। আর থাকলেও তা ফ্রি সেবা দিচ্ছে কিনা নাকি কোন বাড়তি চার্জ দিতে হবে। চার্জ দিতে হলে তা কতো; আর যদি ফ্রি দেয় তাহলে তা শুধু প্রথম বছরের জন্য নাকি আজীবন - এসব বিষয় জেনে নেওয়া যেতে পারে।


০৩. সম্পর্কিত সেবা
ওয়েবসাইট তৈরি করার জন্য ডোমেইনের পাশাপাশি হোস্টিং এবং কখনও কখনও SSL সেবাও দরকার হতে পারে। বর্তমানে বেশ কিছু জনপ্রিয় ডোমেইন রেজিস্ট্রার ডোমেইন সেবার পাশাপাশি হোস্টিং ও এসএসএল সেবাও দিয়ে থাকে। অনেকই প্রয়োজনীয় সকল সেবা একজনের কাছ থেকে নিতেই পছন্দ করেন। তবে এটি বাধ্যতামূলক নয়।


০৪. ফোরাম সার্চ
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো কোন রেজিস্ট্রার নির্বাচনের পূর্বে গুগল বা অন্যকোন সার্চ ইঞ্জিনে খুঁজে দেখা বিভিন্ন ফোরামে এদের সেবা (কন্ট্রোল প্যানেল, কাস্টমার সার্ভিস ইত্যাদি) সম্পর্কে এদের কাস্টমারগণ ভালো-মন্দ কী কী মন্তব্য করেছেন।


০৫. ডিএনএস রেসপন্স
DNS (Domain Name System) বা NS (Name Server) একটি ডোমেইনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যখন কোন ডোমেইন লিখে ব্রাউজ করা হয় তখন ব্রাউজার সর্বপ্রথম এই DNS বা NS এর সাথে সংযোগ ঘটায়। একটি ডোমেইনের NS যতদ্রুত রেসপন্স করে ওয়েবসাইট কানেকশন স্টাবলিশড ততো দ্রুত হয়।

হয়তো খেয়াল করে দেখবেন যখন ব্রাউজারে কোন ওয়েবঅ্যাড্রেস লিখে এন্টার চাপা হয় তখন ব্রাউজারের ট্যাবে একটি বৃত্তাকার অ্যারো প্রথমে বামদিকে এরপর ডানদিকে ঘুরতে শুরু করে। বামদিকে ঘুরে ব্রাউজার প্রথমে ওই ডোমেইনের নেমসার্ভারের সাথে সংযোগ ঘটায়। এই রেসপন্স টাইম দীর্ঘ হওয়ার জন্য শুরু নেমসার্ভারই দায়ী হবে এমন নয়; আপনার ব্যবহৃত ইন্টারনেট সংযোগও দায়ী হতে পারে। তবে যদি আপনার ডোমেইনের নেমসার্ভার রেসপন্স করা বন্ধ করে দেয় তাহলে আপনার সাইট লোড হবে না। তাই এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়ানোর জন্য যে কোন ডোমেইনে নেমসার্ভার কমপক্ষে দুইটি থাকে।


অন্যান্য

আপনি ডোমেইন সরাসরি রেজিস্ট্রার থেকে কিনুন বা বাংলাদেশী কোন রিসেলারের কাছ থেকে কিনুন, কেনার পূর্বে অবশ্যই আরও কিছু বিষয়ে জেনে নিবেন। আমি সংক্ষেপে পয়েন্ট আকারে লিখছি।

১. ডোমেইনের ফুল কন্ট্রোল প্যানেল আপনাকে দিবে কিনা তা জেনে নিন।

২. যদি কখনও ডোমেইন ট্রান্সফার করতে হয় সেক্ষেত্রে আপনি সরাসরি ট্রান্সফার করতে পারবেন কিনা। নাকি তাদের কাছে আসতে হবে। যদি আপনি সরাসরি ট্রান্সফার করতে না পারেন তাহলে ডোমেইন কেনার ব্যাপারে সতর্ক থাকুন।

৩. ডোমেইন ট্রান্সফার আউট করলে তাদের কোন চার্জ দিতে হবে কিনা। এক্ষেত্রে কোন চার্জ লাগে না।

৪. ডোমেইন লক অপশন রয়েছে কিনা তা জেনে নিন।

৫. ডোমেইন ট্রান্সফার অথেনটিকেশন কোড সরাসরি আপনি কন্ট্রোল প্যানেল থেকে নিতে পারবেন কিনা তা জেনে নিন। যদি কোড তাদের কাছে থাকে তাহলে তাদের ইগনোর করুন।

৬. ডোমেইন রেজিস্ট্রেশনের সময় অবশ্যই সতর্ক থাকুন ডোমেইনে ব্যবহৃত সকল তথ্য আপনার কিনা।

৭. বিভিন্ন চটকদার অফারে বিভ্রান্ত না হয়ে ভালোভাবে খোঁজ নিয়ে তারপর ডোমেইন নিবন্ধন করুন।


কিছু জনপ্রিয় ও বিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠান

দেশী ও বিদেশী অনেক প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত সুনামের সাথে ডোমেইন সেবা দিয়ে আসছে। তবে বুদ্ধিমানের কাজ হবে যে প্রতিষ্ঠান থেকেই ডোমেইন নিবন্ধন সেবা গ্রহণ করুন না কেন অনলাইনে বিভিন্ন ফোরাম ও ব্লগে তাদের সম্পর্কে খোঁজ খবর নিয়ে তারপর সেবা গ্রহণ করা। বছরখানেক কাজ করার পরে যদি শখের ডোমেইনটি হারাতে হয় তা কিন্তু আপনার জন্য বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হতে পারে। আমি এখানে হাতেগোনা কয়েকটি প্রতিষ্ঠান উল্লেখ করছি। তবে দয়া করে নিজ বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নিন। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে সেবা গ্রহণের পরে ডোমেইন সংক্রান্ত কোন সমস্যা হলে তার দায় কোনভাবেই আমার ওপর ন্যস্ত হবে না।


গুগল ডোমেইন
বিশ্বখ্যাত অনলাইন জায়ান্ট গুগল ২০১৫ থেকে ডোমেইন সেবা দিয়ে আসছে। এটি এখনও বেটা পর্যায়ে রয়েছে। বর্তমানে বিলিং লোকেশন হিসেবে বাংলাদেশ সাপোর্ট করে না। তবে প্রতিষ্ঠানটি যেহেতু গুগল তাই অবশ্যই বিশ্বাস করা যায়। এদের ডটকম ডোমেইনের রেগুলার মূল্য প্রতি বছরের জন্য ১২ ডলার। এদের ডোমেইন কন্ট্রোল প্যানেলে প্রবেশের ক্ষেত্রে মোবাইল এসএমএস ভেরিফিকেশন ব্যবস্থা রয়েছে। বর্তমানে সাপোর্টেড লোকেশন জানতে নিচের লিংক ভিজিট করুন।

নেমচিপ
নেমচিপ ইনকর্পোরেশন ২০০০ সাল থেকে অত্যন্ত সুনামের সাথে ডোমেইন সেবা দিয়ে আসছে। এদের রেগুলার ডটকম ডোমেইন প্রাইস ১০.৯৮ ডলার। তবে নতুন কাস্টমারদের জন্য রয়েছে বিভিন্ন অফার কুপন। এছাড়া নতুন ডোমেইনে প্রথম বছরের জন্য রয়েছে ফ্রি প্রাইভেসি প্রোটেকশন সুবিধা। প্রতিটি ডোমেইনে রয়েছে ফ্রি ইমেইল ফরওয়ার্ডিং সার্ভিস। এছাড়া এদের রয়েছে হোস্টিং, এসএসএল সহ ডোমেইনের সাথে সম্পর্কিত সেবাসমূহ। এদেরও ডোমেইন কন্ট্রোল প্যানেলে প্রবেশের ক্ষেত্রে মোবাইল এসএমএস ভেরিফিকেশন ব্যবস্থা রয়েছে।


গোড্যাডি
গোড্যাডি ইনকর্পোরেশন ১৯৯৭ সাল থেকে অত্যন্ত সুনামের সাথে ডোমেইন সেবা দিয়ে আসছে। এদের রেগুলার ডটকম ডোমেইন প্রাইস ১৪.৯৯ ডলার। তবে প্রথম বছরের জন্য ১১.৯৯ ডলার। এছাড়াও বিভিন্ন অফার কুপন ব্যবহার করে নতুন কাস্টমার হিসেবে ০.৯৯ ডলারে ডোমেইন নিবন্ধন করার সুযোগ প্রায়ই পাওয়া পায়। এদের রয়েছে বাৎসরিক ১২০ ডলার ফি দিয়ে ডোমেইন ডিসকাউন্ট ক্লাব মেম্বার হওয়ার সুবিধা। এক্ষেত্রে ডটকম ডোমেইন রিনিউয়াল ফি হবে ৮.২৯ ডলার। যদি আপনার ডোমেইন সংখ্যা অনেক হয় (১০০ বা এর বেশি) তাহলে এটি বেশ লাভজনক। এরা ফ্রি ইমেইল ফরওয়ার্ডিং, ফ্রি ফটো অ্যালবাম সেবা দিলেও প্রাইভেসি প্রোটেকশন সার্ভিস ফ্রি নয়। এছাড়া এদেরও রয়েছে হোস্টিং, এসএসএল সহ ডোমেইনের সাথে সম্পর্কিত সেবাসমূহ। এদেরও ডোমেইন কন্ট্রোল প্যানেলে প্রবেশের ক্ষেত্রে মোবাইল এসএমএস ভেরিফিকেশন ব্যবস্থা রয়েছে।


নেমসিলো
স্বল্পমূল্যে ডোমেইন সেবা দেওয়ার জন্য নেমসিলো বেশ জনপ্রিয়। এরা ২০০৯ সাল থেকে ডোমেইন সেবা দিয়ে আসছে। এদের ডটকম ডোমেইন রেগুলার প্রাইস ৮.৯৯ ডলার। তবে নতুন কাস্টমার প্রথম ডোমেইন ক্রয়ে কুপন ব্যবহার করে ১ ডলার ছাড় পেতে পারেন। এছাড়াও এদের রয়েছে বাল্ক ডোমেইন ক্রয়ে মূল্যছাড় সুবিধা। এরা শুধুমাত্র ডোমেইন সেবা দিয়ে থাকে। এদের ডোমেইনের সাথে রয়েছে ফ্রি প্রাইভেসি প্রোটেকশন ও ইমেইল ফরওয়ার্ডিং সেবা। এদের ডোমেইন কন্ট্রোল প্যানেলে প্রবেশের ক্ষেত্রে মোবাইল এসএমএস ভেরিফিকেশন ব্যবস্থা নেই।

আপনি যদি নতুন গ্রাহক হয়ে থাকেন তাহলে শুধুমাত্র প্রথম ডোমেইন ক্রয় অথবা ট্রান্সফারের ক্ষেত্রে ১ ডলার ছাড় পেতে bloggerzia কুপনটি ব্যবহার করুন।

এছাড়া আপনি যদি এদের ডিসকাউন্ট ক্লাবের সদস্য হোন সেক্ষেত্রে ডটকম ডোমেইন নিবন্ধন মূল্য হবে ৬.৯৯ ডলার এবং রিনিউয়াল ফি হবে ৮.৮৯ ডলার। এদের ডিসকাউন্ট ক্লাব মেম্বার ফি ফ্রি। তবে শর্ত হলো আপনার নেমসিলো অ্যাকাউন্ট ফান্ডে কমপক্ষে ৫০ ডলার লোড করতে হবে।


ওয়ান এন্ড ওয়ান
ওয়ান এন্ড ওয়ান ১৯৮৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এরাও বেশ জনপ্রিয় ডোমেইন রেজিস্ট্রার। এদের ডটকম ডোমেইন রেগুলার প্রাইস ১৪.৯৯ ডলার তবে প্রথম বছরের জন্য নিবন্ধন মূল্য ৮.৯৯ ডলার। নতুন কাস্টমার প্রথম ডোমেইন ক্রয়ে প্রথম বছরের জন্য মাত্র ০.৯৯ ডলারে নিবন্ধনের সুযোগ পান। এরা ডোমেইনের পাশাপাশি হোস্টিং ও এসএসএল সেবাও দিয়ে থাকেন। এরা ফ্রি প্রাইভেসি প্রোটেকশন ও ইমেইল ফরওয়ার্ডিং সেবা দিয়ে থাকেন। এদেরও ডোমেইন কন্ট্রোল প্যানেলে প্রবেশের ক্ষেত্রে মোবাইল এসএমএস ভেরিফিকেশন ব্যবস্থা নেই।


ইকরা
বাংলাদেশী ডোমেইন সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ইকরা অন্যতম। এরা ইনম ইনকর্পোরেশনের রিসেলার। ইকরা প্রতিটি ডটকম ডোমেইনের জন্য বাৎসরিক ১০০০ টাকা মূল্য নিয়ে থাকেন। ইকরা ডোমেইনের পাশাপাশি হোস্টিং এবং এসএসএল সেবাও দিয়ে থাকেন। এদেরও ডোমেইন কন্ট্রোল প্যানেলে প্রবেশের ক্ষেত্রে মোবাইল এসএমএস ভেরিফিকেশন ব্যবস্থা নেই।


এছাড়াও দেশি বিদেশী অনেক প্রতিষ্ঠান রয়েছেন। সবার সংক্ষিপ্ত রিভিউ দেওয়া সম্ভব নয়। যদি কোন প্রতিষ্ঠান থেকে ডোমেইন সেবা নেওয়ার চিন্তা করে থাকেন তাহলে অবশ্যই পরিচিত যারা ইতিমধ্যে সেবা নিয়েছেন তাদের ও অনলাইনে একটু প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে রিভিউ পড়ে নিতে ভুলবেন না।


ন্যাকেট ডোমেইন নাকি FQDN

অনেকেই একটু দ্বিধায় পড়েন তা হলো তার ওয়েবসাইট অ্যাড্রেসটি www সহ হবে নাকি ন্যাকেট ডোমেইন ব্যবহার করবেন। আপনি যে কোন ভাবেই সাইট তৈরি করতে পারেন। তবে আমার মতে FQDN (www সহ) ব্যবহার করাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে। যদিও এর সাথে এসইও-এর কোন প্রভাব নেই। তবে আপনি যেটাই ব্যবহার করেন না কেন অবশ্যই খেয়াল রাখবেন অন্যটি যেন মূল সাইটে রিডাইরেক্ট হয়। অর্থাৎ আপনি যদি FQDN-এ সাইট করেন তাহলে অবশ্যই ন্যাকেট ডোমেইন (www ছাড়া) ব্রাউজ করলে তা যেন FQDN-এ চলে আসে।


উপসংহার

তিন-চারটি আলাদা আলাদা পোস্ট না করে এক পোস্টে চেষ্টা করেছি আমার জানা সবটুকু লেখার। এবং চেষ্টা করেছি এমনভাবে লিখতে যেন তা অন্তত আপনাদের সামান্য হলেও উপকারে আসে। তাই পোস্টটি অনেকটা দীর্ঘ হয়েছে। সবশেষে আমি সংক্ষেপে বলবো ডোমেইন কেনার আগে অবশ্যই অনলাইনে বিশেষ করে ফোরাম পোস্ট থেকে এবং আপনার যদি পরিচিত কেউ থাকে তাহলে তাদের অভিজ্ঞতা জেনে তারপর সার্ভিস প্রোভাইডার নির্বাচন করতে। এবং অবশ্যই অবশ্যই ডোমেইনের ফুল কট্রোল যেন আপনার হাতে থাকে এবং ডোমেইনে ব্যবহৃত সকল তথ্য অবশ্যই আপনার হয়।

2 comments:

  1. নিঃসন্দেহে অসাধারন এবং উপকারি আর্টিকেল, লেখককে ধন্যবাদ এবং তার প্রশংসা করছি, আবারো ধন্যবাদ।

    ReplyDelete
    Replies
    1. ধন্যবাদ আপনার এমন উৎসাহমূলক মন্তব্যের জন্য।

      Delete

Powered by Blogger.